তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, আমাদের কাছে ক্রিকেট অনুরাগীও

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

আকরাম খান

আইসিসি ট্রফিজয়ী আকরাম খানদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা-ফাইল ছবি

আইসিসি ট্রফিজয়ী আকরাম খানদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা-ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীকে আমার প্রথম দেখা ১৯৯৬ সালে এসিসি টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। তিনি আমাদের এক লাখ টাকা করে উপহার দিয়েছিলেন। সে সময় দেশের ক্রিকেটের বড় সমস্যা ছিল অবকাঠামো। মাঠের অভাবে নিয়মিত খেলা হতো না। এই জিনিসগুলোর স্থায়ী সমাধান করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়। আমাদের যে গণসংবর্ধনা দিয়েছিলেন, দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেটা অদ্বিতীয়। সংবর্ধনায় প্রত্যেক ক্রিকেটারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দিয়েছিলেন তিনি। আইসিসি ট্রফি জেতার পর যে সম্মান ক্রিকেটারদের দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, সেখান থেকেই ক্রিকেটের উত্থান শুরু। ওই সংবর্ধনা দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করেছে ক্রিকেটকে। আমাদের পরিচিতি ও খ্যাতি দিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দলের পোস্টার দেখেছি গ্রামগঞ্জে মানুষের বাড়িতে। ১৯৯৭ সালের পর থেকেই ক্রিকেটের প্রতি নতুন প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হয়। ফলে আশরাফুল, মাশরাফিরা উঠে আসে। দেশের ক্রিকেট আজ যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর বিশাল অবদান। ক্রিকেটার ও বোর্ডের যে কোনো প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ান তিনি। যে কোনো সমস্যার সমাধান করে দেন। দেশের ক্রিকেটের জন্য এটা বিশাল পাওয়া।
আমাদের ক্যারিয়ারের প্রথম জীবনে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে দেখা করাই ছিল কষ্টকর। '৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রক্রিয়াটা সহজ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেটারদের জন্য তার দ্বার সব সময় খোলা। খেলোয়াড়দের প্রতি যে আন্তরিকতা দেখান তিনি, বিশ্বের আর কোনো প্রধানমন্ত্রী তা পারবেন না। প্রত্যেকের নাম তার মুখস্থ। নাম ধরে ধরে খোঁজখবর নেন। আমরা বিশ্বের যে প্রান্তেই খেলি, রাত জেগে খেলা দেখেন তিনি। ভালো কিছু হলে ফোনে অভিনন্দন জানান। অনেকবার ফোন দিয়েছেন আমাকে। তিনি আসলে প্রধানমন্ত্রী নন, ক্রিকেট অনুরাগী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী না থাকলে আমরা ক্রিকেটাররা আজ বিসিবিতে সংগঠক হতে পারতাম না। আমি, দুর্জয়, সুজন যে বোর্ড পরিচালক, তা প্রধানমন্ত্রীর কারণে। আমি জানতাম, তিনি ক্রিকেটকে পছন্দ করেন; কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি তার আবেগ ও বিচক্ষণতা দেখেছি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ চলাকালে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে ৩০ রান লাগত। তিনি এসে বললেন, 'তোমরা দেখো আমরা জিতব।' শেষ পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচটা ২০ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেট নিয়ে তার বিশ্নেষণ, আত্মবিশ্বাস আমাদের চেয়ে বেশি।
একটা ঘটনা বলি, এক অনুষ্ঠানে সাবিনা (আকরামের স্ত্রী) প্রধানমন্ত্রীকে বলেছে, 'আপা, আপনার শাড়িটা অনেক সুন্দর।' শোনার পর কিছু বলেননি তিনি। পরে গণভবনে যাওয়ার জন্য তার অফিসে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে বলা হলো, আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যেতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা গেলাম। অনেকক্ষণ গল্প করার পর অসম্ভব সুন্দর দুটি শাড়ি সাবিনাকে দিলেন তিনি। অনেক দামি শাড়ি কাঞ্চিভাড়ান। আমার স্ত্রী শাড়ি দুটি রেখে দিয়েছে দুই মেয়ের বিয়েতে দেওয়ার জন্য। আমাকে তিনি খুবই স্নেহ করেন। তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞ।
আমাকে প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দেখার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেড় মাসে আমি দেড় কোটি টাকার স্পন্সর তুলে দিয়েছি। এখনও প্রতিবন্ধী ক্রিকেটের সঙ্গে আছি। তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো, তিনি জানেন কাকে দিয়ে কোন কাজটা করাতে হবে। আমি আল্লাহর কাছে ও তার কাছে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে আমাকে যে ধরনের কাজ দেবেন, আন্তরিকতা নিয়ে করে দেব। ২০১৪ সালে টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করা কঠিন ছিল। তখন তিনি নিজ উদ্যোগে অনেক কিছু করে দিয়েছেন। বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ে ফোন করে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। ২০১৭ সালে হলি আর্টিসানে সন্ত্রাসী হামলার পর আমাদের দেশে বিদেশি দল আসছিল না। ইংল্যান্ডকে আনার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে। ইংল্যান্ড খেলতে আসার পর পুরো দেশের পরিস্থিতি বদলে যায়। দেশে এক নম্বর খেলা এখন ক্রিকেট। যখন কিছু ছিল না, তখন ক্রিকেটের দিকে হাত বাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য প্রতিনিয়ত দোয়া থাকবে। তার পরিবারকে সকল বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহ যেন রক্ষা করেন।
সর্বোপরি, আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ৭৪তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আল্লাহর কাছে তার দীর্ঘায়ু কামনা করি। কেননা তিনি দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। বাংলাদেশের আজ এই পর্যায়ে আসার পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ থাকা প্রয়োজন।
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক।
অনুলিখন :আলী সেকান্দার