যুবলীগের নতুন কমিটি: ইতিহাসের আয়নার সামনে বর্তমান

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২০     আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২০   

শেখ আদনান ফাহাদ

চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

নিজ মাতৃভূমির মুক্তিযুদ্ধের গান বলে বলছি না; বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সৃষ্ট দেশাত্মবোধক এবং গণসংগীতগুলো লিরিকস, সুর, কম্পোজিশন এবং অবশ্যই মূল শিল্পীদের অসাধারণ কণ্ঠস্বর ও গায়কির সমন্বয়ে আমার মতে পুরো বিশ্বেরই অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীত। যে গানগুলো শুনে শুনে আমরা বড় হয়েছি তার একটি হচ্ছে- 'মাগো ভাবনা কেন, আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে;/তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি,/তোমার ভয় নেই মা- আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।' এমন সাহসী এবং উদ্যমী মানুষের দরকার এখনও ফুরিয়ে যায়নি; বরং বলা যায় বাংলাদেশের এখন হৃদয়বান দামাল মানুষের বেশি দরকার।

বাংলাদেশের এখন দরকার দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা হবেন সুশিক্ষিত, সৎ, সৃষ্টিশীল, শান্তিপ্রিয় শান্ত কিন্তু শত্রু এলে প্রতিবাদ করতে জানবে, রাষ্ট্রবিরোধী যে কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সাহস রাখবে এবং দাঁড়িয়ে যাবেও। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই, দরকারও নেই। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, বাঙালির একমাত্র স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের নিয়মিত সামরিক বাহিনী রয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। সংসদ, বিচার বিভাগ সবই কার্যকর আছে। বাংলাদেশ কোনো ব্যর্থ রাষ্ট্র নয়। নানাবিধ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংকট এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকলেও বাংলাদেশ সে সব বাধা ঠেলে ক্রমশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে, সেটি এখন বৈশ্বিকভাবেই স্বীকৃত। ফলে '৭১ সালের অস্ত্র আর একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের শেষবেলায় একজন যুবকের অস্ত্র এক হবে না। এখন দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র হবে বুদ্ধি, দেশপ্রেম, সততা, সৃষ্টিশীলতা, উৎপাদন, ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক-রাজনৈতিক তৎপরতা। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কি এমন শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে, কিন্তু শত্রু এলে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতো যুবকদের সংগঠন হতে পেরেছে?

করোনাময় পৃথিবীর এক অদ্ভুত অস্থির সময়ে গত ১৪ নভেম্বর যুবলীগের ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এই কমিটি ঘোষণা করেন। নতুন কমিটি বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। যুবলীগের গত কমিটির বিতর্কিত সবাইকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেই বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর এসেছে। পাশাপাশি বয়স ৫৫ বছরের বেশি হওয়ায় বাদ পড়েছেন ৭০ জনের বেশি।

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস তখনই পাওয়া গিয়েছিল যখন রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন ক্যাসিনোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একের পর এক অভিযান শুরু করে। অভিযান চালিয়ে যাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে তাদের অনেকে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পরিস্কার ঘোষণা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণের পথে তিনি কারও দলীয় পরিচয় দেখেন না। যুবলীগের মধ্যে আনা সংস্কার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কথারই শক্ত প্রতিফলন। সংস্কারের পথ ধরে অভাবনীয় নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে যুবলীগের দায়িত্ব দেওয়া হয় দু'জন ব্যতিক্রমধর্মী মানুষকে। যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শেখ ফজলে শামস্‌ পরশ। একই সঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাইনুল হোসেন খান নিখিল। যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের কাউন্সিল অধিবেশনে তাদের নির্বাচিত করা হয়। মাইনুল হোসেন খান নিখিল ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্‌ পরশ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক।

যুবলীগের চেয়ারম্যান এমন একজন মানুষের সন্তান যাকে নিয়ে লেখা যেতে পারে কালজয়ী উপন্যাস, যাকে নিয়ে নির্মিত হতে পারে বিশ্বজয়ী চলচ্চিত্র। শেখ ফজলে শামস্‌ পরশ যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে। শেখ ফজলুল হক মনি কেন যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? বড় ছেলের নাম কেন রেখেছিলেন পরশ? ছেলের নাম 'পরশ' কেন রেখেছিলেন এমন যোগসূত্র-সংবলিত কোনো ইতিহাস-নির্ভর লেখা আমাদের চোখে পড়েনি। কিন্তু ইতিহাসের এমন অজানা তথ্য এখানে দিতে পারি, যেটি শুনে আমার বিশ্বাস অনেকেই অবাক হবেন। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মাণের রাজনৈতিক ও বিপ্লবী তৎপরতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি সাংকেতিক নাম ছিল। সেই সাংকেতিক নামটি ছিল 'পরশ'!

পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র অর্জনের সামরিক প্রক্রিয়ার শুরু ছিল ষাটের দশক থেকে। রাজনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে জন্ম হয় বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের (বিএলএফ)। বিএলএফের চার নেতা সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আবদুর রাজ্জাক এবং তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন। ছাত্রলীগ কর্মীদের রাজনৈতিক আদর্শ ও সামরিক প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে প্রস্তুত করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিএলএফ কাজ শুরু করে। ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যসহ পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকায় যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত যোদ্ধা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে আমরা ১৯৬৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগরতলা গমন এবং অরুন্ধতীনগরের হেমাঙ্গিনী দেবীর বাড়িতে প্রায় ১৫ দিন অবস্থানের ইতিহাস স্মরণ করতে পারি। বঙ্গবন্ধু ১৫ দিন আগরতলায় অবস্থান করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু সাহেবের সঙ্গে সামরিক সাহায্য বিষয়ে সরাসরি দেখা করার প্রচেষ্টা চালান। শেখ মুজিবের সেই দুঃসাহসী সফরের সব আয়োজন করেছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বাবু শচীন্দ্রলাল সিংহ। শচীন্দ্রলাল সিংহের বোন হেমাঙ্গিনী দেবীর বাড়িতে শেখ মুজিবুর রহমান প্রায় ১৫ দিন অবস্থান করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সৃষ্টিতে স্বাধীনতাকামীদের প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা বিষয়ে একাধিক গোপন বৈঠক করেন। যদিও দিল্লিতে গিয়ে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের আকাঙ্ক্ষিত বৈঠকটি সংঘটিত হয়নি। কিন্তু আগরতলায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের গমনাগমন বন্ধ হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা দেখি পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মরত ও সাবেক সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল- তারা ভারত সরকারের সহায়তায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা শহরে ভারতীয় পক্ষ ও আসামি পক্ষের মধ্যে এ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মামলায় উলেল্গখ থাকায় একে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এ মামলা এবং এর প্রতিক্রিয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার অচিরেই মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানের সামরিক জান্তার জন্য এই প্রক্রিয়া 'ষড়যন্ত্র' হলেও আমাদের জন্য ছিল নিষ্পেষণ আর মুক্তির মহান প্রক্রিয়া। এই পুরো গোপন, স্পর্শকাতর ও দুঃসাহসী কাজে বঙ্গবন্ধুর একটি সাংকেতিক নাম তার ঘনিষ্ঠ সামরিক অফিসাররা ব্যবহার করতেন। সেই নামটি ছিল 'পরশ'। বিএলএফের অন্যতম স্তম্ভ শেখ ফজলুল হক মনি বড় ছেলের নাম রেখেছিলেন পরশ। যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান বঙ্গবন্ধুর বাতলে যাওয়া পথেই শুধু বড় হননি, সরাসরি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক নামেরও উত্তরাধিকার বহন করছেন।

বিএলএফ থেকেই মুজিব বাহিনীর জন্ম। সেই বাহিনী যেটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী। আওয়ামী লীগ ও এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে এ বাহিনী গঠন করা হয়। প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের এ বাহিনীকে চারটি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং এর নেতৃত্বে ছিল ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কম্যান্ড। প্রথম দিকে সেক্টর কমান্ডাররা ভারতের ব্যারাকপুর, শিলিগুড়ি, আগরতলা ও মেঘালয় থেকে নিজ নিজ বাহিনী পরিচালনা করতেন। এ বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডার ছিলেন তোফায়েল আহমেদ, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও শেখ ফজলুল হক মনি। শেখ ফজলুল হক মনি মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল উবানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেরাদুন পাহাড়ি এলাকায় এ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

দেশ স্বাধীন হয়ে গেলে জাতির পিতার পায়ে অস্ত্র সমর্পণ করে জাতি গঠন কাজে আত্মনিয়োগ করেন শেখ ফজলুল হক মনি। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। যুবলীগ তাই আকস্মিক গজিয়ে ওঠা কোনো সংগঠন নয়। বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের জন্ম দিয়েছিলেন সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে। এই মহান নেতার আশীর্বাদেই সৃষ্টি হয় বিএলএফ, যা মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিববাহিনী নাম নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বিধ্বস্ত করেছিল। মুজিববাহিনীর প্রধান শেখ ফজলুল হক মনির হাতেই স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নেয় যুবলীগ। অস্কার বিজয়ী কোনো সিনেমার গল্প বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এটা ইতিহাস। আফসোস, যে সংগঠনের এমন গৌরবময় অতীত, সেই সংগঠনের নেতৃত্ব চলে গিয়েছিল ক্যাসিনোর মালিক আর সন্ত্রাসীদের হাতে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা হস্তক্ষেপ করেছেন সহযোগী সংগঠনের অস্তিত্ব রক্ষায়। সাহসী যুবক আর সন্ত্রাসী যুবকের মধ্যে পার্থক্য আছে। জঙ্গি আর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে যেমন পার্থক্য আছে। জঙ্গি ফুলকে পিষে দিতে সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়; অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা একটি ফুলকে বাঁচাবে বলে যুদ্ধ করে। ১৯৮৭ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুবলীগের কর্মী নূর হোসেন ছাড়াও যুবলীগ নেতা নূরুল হুদা বাবুল ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা টিটো শাহাদাত বরণ করেন। যুবলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর তাই নূর হোসেন হতে হবে। নির্ভয়ে সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সাম্প্রতিককালে আমরা দেখেছি যুবলীগের নেতাকর্মীরা মানুষকে করোনা থেকে বাঁচাতে জান বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা দেখেছি, কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসছেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এক জেলার শ্রমিক অন্য জেলায় পাঠিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে যুবলীগ এই করোনার সময়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। যুবলীগের এই মানবতাবাদী আচরণ অতীত গৌরবের কথাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়।\হকিংবদন্তি যোদ্ধা পুরুষ শেখ ফজলুল হক মনির নিজের হাতে গড়া সংগঠন যুবলীগ তাই কোনোভাবেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আর অত্যাচারী জালেমদের হাতে জিম্মি হতে পারে না। হাতে গোনা কয়েকজনের অপকর্মের জন্য পুরো যুবলীগের বিনাশ মুক্তিযুদ্ধপন্থি কারোরই কাম্য হতে পারে না। স্বাধীনতা-বিরোধী চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রায় সপরিবারে হত্যা করে। বিদেশে থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। খুনিরা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সব সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই সেদিন আক্রমণ করেছিল। মানব ইতিহাসের সেই জঘন্যতম হত্যা পরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সঙ্গে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার স্ত্রী বেগম আরজু মনিকেও হত্যা করেছিল। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারবে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা নির্মাণ করতে সক্ষম হবেন- এমন সব নেতাকেই সেদিন হত্যা করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছিল খুনিরা। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন পরমকরুণাময় আলল্গাহর বিশেষ রহমতে। পরমকরুণাময়ের নির্দেশে আরও দু'জন মানুষ আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। একজন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্‌ পরশ; আরেকজন শেখ ফজলে নূর তাপস। নেতৃত্বগুণ ও দেশপ্রেম তাঁদের রক্তে। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে '৭৫ এর খুনি চক্র। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শেখ হাসিনার সরকারের সময় বঙ্গবন্ধুর খুনি ও ১৯৭১ সালের মানবতাববিরোধী অপরাধীদের বিচার হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়নের নানা সূচকে ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক রাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় ২৫টি অর্থনীতির দেশের একটি হবে। তখন বাংলাদেশ হবে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বর্তমানে অবস্থান ৪১তম। ২০৩৩ সালে আমাদের পেছনে থাকবে মালয়েশিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ। আগামী ১৫ বছর দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি গড়ে ৭ শতাংশ থাকবে। এই গৌরবময় অগ্রযাত্রায় যুবলীগ কি পারবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য সারথি হতে?

যারা যুবলীগ, ছাত্রলীগ তথা আওয়ামী লীগের ধ্বংস কামনা করেন এবং নানা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়াস চালিয়ে ঐতিহাসিক এই সংগঠনগুলোর বিলুপ্তির প্রয়াস চালান, তারা সেই আলবদর, আলশামস, রাজাকার বাহিনীরই উত্তরাধিকারী। পাশাপাশি যারা যুবলীগ, ছাত্রলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের লেবাসে নানাবিধ অপকর্ম করে বেড়ায়, তারাও প্রকারান্তরে স্বাধীনতা-বিরোধীদেরই দোসর। এদের জন্য স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি যুবলীগ, ছাত্রলীগকে কলঙ্ক দেওয়ার সুযোগ পায়। আশার বিষয় হলো, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই আত্মঘাতী তৎপরতার মূল হোতাদের চিহ্নিত করে সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার সুযোগ করে দিয়েছেন। ২০১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি আপাত দৃষ্টিতে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। সরাসরি ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব গুণে গুণান্বিত সদস্য আছেন উলেল্গখযোগ্য সংখ্যায়। বঙ্গবন্ধুর মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক আদর্শে বিশ্বাসী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ব্যবসায়ীরাও এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।

বহুল আকাঙ্ক্ষার এই কমিটি কি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর এবং দেশবাসীর মনের আশা পূরণ করতে পারবে? যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি ভিন্নধর্মী শ্রেণিবিন্যাস আমরা করতে পারি।

ইতিবাচক ও মানবিক কর্মসূচির পাশাপাশি চলে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রস্তুত করার কাজ। প্রস্তুত করা হয় ২০১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অনুমোদনক্রমে গত ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এবারের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন সর্বোচ্চ সংখ্যক সাবেক ছাত্রনেতা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিকসহ অন্যান্য পেশার গুণী ও যোগ্য ব্যক্তিরা। শুনেছি বহু যাচাই-বাছাইয়ের পর এ কমিটি অনুমোদন পেয়েছে। মেধাবী ও তারুণ্যনির্ভর হওয়ায় এ কমিটি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। আসুন চোখ বুলিয়ে আসি কেমন পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে এবার যুবলীগের।

সাবেক ছাত্রনেতা: মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, নবগঠিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি ছিলেন। জয়দেব নন্দী, নবগঠিত কমিটির প্রচার সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সামছুল কবির রাহাত, নবগঠিত কমিটির উপ-জনশক্তি ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক, তিনি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, নবগঠিত কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক। আদিত্য নন্দী, নবগঠিত কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। এন আই আহমেদ সৈকত, নবগঠিত কমিটির উপ-তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রিপন-রোটন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। মো. আব্দুর রহমান জীবন নবগঠিত কমিটির সহ-সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নাজমুল হুদা ওয়ারেসি নবগঠিত কমিটির সহ-সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। আহতাসামুল হাসান ভূঁইয়া রুমি নবগঠিত কমিটির সহ-সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মো. মনোয়ারুল ইসলাম মাসুদ নবগঠিত কমিটির সহসম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। অ্যাডভোকেট শেখ নবীরুজ্জামান বাবু, নবগঠিত কমিটির উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল, নবগঠিত কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি রিপন- রোটন কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন, জসীম উদ্দিন ভূইয়া, নবগঠিত কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি রিপন-রোটন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, শেখ আলাউল সৈকত, নবগঠিত কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি রিপন-রোটন কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। এমন অসংখ্য উদাহরণ এ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রয়েছে। এ ছাড়া ছাত্ররাজনীতি করে পূর্বে যুবলীগে ছিলেন, তারা এখন এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

শিক্ষক: অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস্‌ পরশ, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ; তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এবং শেখ ফজলুল হক মনির জ্যেষ্ঠ পুত্র। অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক; বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, উচ্চশিক্ষিত এবং তার বাবা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। মো. ইব্রাহিম মিয়া, সদস্য; বেলাল হোসেন অনিক, সদস্য; ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য; ড. মো. রায়হান সরকার রিজভী, কার্যনির্বাহী সদস্য; তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছেন এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এ ছাড়া অন্যরা ও নিজ জায়গায় অনন্য। প্রফেসর মো. আকরাম হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য; অধ্যাপক ড. বিমান চন্দ্র বড়ূয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য; অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য; অধ্যাপক ড. মো. আরশেদ আলী আশিক, কার্যনির্বাহী সদস্য; মো. মেহেরুল হাসান সোহেল, কার্যনির্বাহী সদস্য; অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার তানভীর ফেরদৌস সাইদ, কার্যনির্বাহী সদস্য; ড. মো. জাভিদ ইকবাল বাঙালি-সদস্য; ড. সুবোধ দেবনাথ-সদস্য, ড. ফয়সাল ইবনে আব্বাস-সদস্য, রোজিনা আক্তার রিমা-সদস্য।

প্রকৌশলী: ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোয়াদ্দার, প্রেসিডিয়াম সদস্য; ইঞ্জিনিয়ার মো. শামীম খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক; ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, সহ-সম্পাদক; ইঞ্জিনিয়ার প্রতীক ঘোষ, কার্যনির্বাহী সদস্য; ইঞ্জিনিয়ার আবু সাইদ মো. হিরো, কার্যনির্বাহী সদস্য; ইঞ্জিনিয়ার মো. আসাদুল্লাহ তুষার, কার্যনির্বাহী সদস্য; ইঞ্জিনিয়ার মো. শহিদুল ইসলাম সরকার, কার্যনির্বাহী সদস্য।

চিকিৎসক: চিকিৎসকমণ্ডলী বা চিকিৎসা পেশাজীবীদের মধ্যে সাবেক ছাত্রনেতা এবং আওয়ামী লীগ পরিবারের যেমন: ডা. খালেদ শওকত আলী, প্রেসিডিয়াম সদস্য; ডা. হেলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক; ডা. মো. ফরিদ রায়হান, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক; ডা. মাহফুজুর রহমান উজ্জ্বল, উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক; ডা. মো. মঞ্জুরুল রাফি, সহ-সম্পাদক; ডা. মো. আওরঙ্গজেব, কার্যনির্বাহী সদস্য; ডা. সম্রাট নাসের খালেদ, সদস্য; ডা. মফিজুর রহমান জুম্মা, সদস্য।

আইনজীবী: আইনজীবীমণ্ডলীর মধ্য অনেকেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, আওয়ামী লীগ পরিবারের যেমন: অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য; ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য; ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম (বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক; অ্যাডভোকেট মো. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক; ব্যারিস্টার আলী আসিফ খান রাজিব, শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক; ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইদুল হক সুমন, আইন সম্পাদক; অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হোসেন সুমন, উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক; ব্যারিস্টার আরাফাত হোসেন খান, অ্যাডভোকেট মো. হেমায়েত উদ্দিন মোল্লা, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক; অ্যাডভোকেট মুক্তা আক্তার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক; অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু, কার্যনির্বাহী সদস্য; অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হুদা নাহিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য; অ্যাডভোকেট এম. এ কামরুল হাসান খান আসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য; অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য; ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান সুজন, কার্যনির্বাহী সদস্য; অ্যাডভোকেট কাজী বসির আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য; অ্যাডভোকেট মো. সওকত হায়াত, কার্যনির্বাহী সদস্য; অ্যাডভোকেট এস এম আসিফ শামস রঞ্জন, কার্যনির্বাহী সদস্য; অ্যাডভোকেট মো. সাজেদুর রহমান চৌধুরী বিপ্লব, কার্যনির্বাহী সদস্য।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী: মো. আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, প্রেসিডিয়াম সদস্য; শেখ সোহেল উদ্দিন (বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য), প্রেসিডিয়াম সদস্য; শেখ ফজলে ফাহিম (বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য), প্রেসিডিয়াম সদস্য, মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী এমপি (বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য), প্রেসিডিয়াম সদস্য; তারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এবং রাজনৈতিক পরিবারের যা সর্বজনবিদিত। এ ছাড়া অন্যরা হলেন মো. হাবিবুর রহমান পবন, প্রেসিডিয়াম সদস্য; মো. এনামুল হক খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য; মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য; সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য; এম শাহাদাত হোসেন তসলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য; জসিম মাতুব্বর, প্রেসিডিয়াম সদস্য; মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক।

এমন ত্যাগী, সাহসী, আপসহীন, দেশপ্রেমী, মেধাবী ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি আমাদেরকে স্বপ্ন দেখায়। সব মিলে নতুন এই কেন্দ্রীয় কমিটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে। এই আপাত 'ভারসাম্যপূর্ণ' কমিটি কতখানি সফল হবেন? যৌবনের অসাধারণ সম্ভাবনাময় সময়কে দেশমাতৃকার কল্যাণে বিনিয়োগ করার সুযোগ করে দিতে বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদ নিয়ে যুবকদের জন্য শেখ ফজলুল হক মনি জন্ম দিয়েছিলেন যুবলীগের। এই উত্তরাধিকার বহন করার গুরুভার এখন পরশ-নিখিল কমিটির হাতে। সাল্ফপ্রতিককালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনা করছে গত ২০০৯ সাল থেকে। এই দারুণ সুযোগে যুবলীগ কি তার হূত গৌরব ফিরিয়ে এনে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা নির্মাণের কর্মযজ্ঞে শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের অন্যতম সহযোগী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবে? কেন্দ্রীয় কমিটির সাফল্য নির্ভর করবে মহানগর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটির ওপর। মানুষ কী চায় যুবলীগের কাছে? এই প্রশ্নের উত্তর যদি যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি তালাশ করে, তাহলে বোধকরি ভবিষ্যৎ চলার পথ চ্যালেঞ্জিং হলেও অর্থপূর্ণ হবে। বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু কন্যার যে ভিশন, সেই ভিশন বাস্তবায়নে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব যুবশক্তিকে যুব সম্পদে রূপান্তরিত করে দারুণভাবে এগিয়ে যাবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সর্বোপরি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে অশেষ কৃতজ্ঞতা।