তরুণ প্রজন্মকে মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে রক্ষা এবং বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে 'উন্মুক্ত গ্রন্থাগার'। চট্টগ্রামের ২০ জন মিলে প্রথমবারের মতো এমন একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। আজ শুক্রবার উদ্বোধন হবে অনেস্ট সেন্টার নামে এই গ্রন্থাগারের।
গ্রন্থাগারে স্থান পাবে নানা বয়সী পাঠকদের জন্য অন্তত ১০ হাজার বই। শিশুদের নিয়ে সপ্তাহে দু'দিন পালন করা হবে কিডস ডে। এই গ্রন্থাগারে বিনামূল্যে বই পড়ার পাশাপাশি শিশুরা সুযোগ পাবে গল্প-ছড়া শোনানোর। করতে পারবে আবৃত্তি। গ্রন্থাগার ত্যাগ করে বাসায় ফেরার সময় মিলবে ছোট্ট একটি উপহারও।
চট্টগ্রাম নগরের মূল কেন্দ্র জামালখানের সিপিডিএল ম্যাজেস্টারের চতুর্থ তলায় (প্রেস ক্লাব/বাতিঘরের উল্টোদিকে) প্রায় দেড় হাজার বর্গফুট আয়তনের জায়গায় গ্রন্থাগারটি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে শিশু-তরুণদের পাশাপাশি বয়স্কদের জন্যও রাখা হয়েছে বই পড়াসহ নানা বিনোদনের। সন্তান নিয়ে আসা অভিভাবকরা যাতে স্বস্তিতে বই পড়তে পারেন, সে জন্য বাচ্চাদের জন্য রাখা হয়েছে কিডস কর্নার। যেখানে শিশুরা আর্ট করবে, পড়বে ও খেলবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার পালন করা হবে কিডস ডে। এই দু'দিন তারা রং-তুলিতে রাঙাবে অনেস্ট সেন্টার। বই পড়বে, ছড়া আর গল্প শোনাবে অতিথিদের।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা লেখক সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ। সমকালকে তিনি বলেন, 'বর্তমান সময়ে বিশেষ করে তরুণরা মোবাইল ফোনে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ নেই তাদের। মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে বের করে এনে বই পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াতেই ব্যতিক্রমী লাইব্রেরিটি তৈরি করেছি। লাইব্রেরিতে বসে যাতে কেউ মোবাইল ফোনে ব্যস্ত হয়ে না পড়ে, সেজন্য সেখানে ওয়াইফাই রাখা হয়নি। এখানে পাঠকদের নিয়ে প্রতিবছর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সেই প্রতিযোগিতায় সম্মাননা ক্রেস্টসহ দেওয়া হবে আর্থিক অনুদানও। মূলত মানবসেবার জন্য প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে।' অনেস্ট সেন্টারের সিইও মনিরুল হক অপু বলেন, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনোদন নিতে পারবেন অতিথিরা।
চট্টগ্রামে অজ্ঞাত রোগীদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম নেসারও আছেন এই উদ্যোগের সঙ্গে। অনেস্ট সেন্টারের ট্রাস্টি মেম্বার সাইফুল ইসলাম নেসার বলেন, 'বিনামূল্যের লাইব্রেরি চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে নতুন দিগন্তে দ্বার উন্মোচন হচ্ছে। লাইব্রেরির মাধ্যমে নতুন এক জগতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ঘুরে আসতে পারবেন শিশু-বয়স্করা।'
নগরের জামালখানের আসকার দিঘি এলাকার বাসিন্দা সবিতা বিশ্বাস বলেন, রাস্তায় হাঁটতে গেলে দেখি উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। বিনামূল্যে বই পড়ার জন্য উন্মুক্ত গ্রন্থাগার চালু হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করছি। আশা করছি, এটির মাধ্যমে মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে তরুণরা কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে।



মন্তব্য করুন