নারী মানে একের ভেতর অনেক। নারী যেমন জননী, নারী তেমনি সহধর্মিণী, নারী যেমন গৃহিণী, নারী তেমনি নেত্রী। নারীদের যোগ্যতা, ক্ষমতা কিংবা সামর্থ্যকে সন্দেহ নয়, দেখতে হবে শ্রদ্ধার চোখে। তবেই এগিয়ে যাবে দেশ, এগিয়ে যাবে জাতি।

আগে মেয়েদের জন্য কাজ করা অনেক বেশি কঠিন ছিল আর কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি কিংবা নারী উদ্যোক্তা ছিল না বললেই চলে। তবে বর্তমানে ব্যবসা ক্ষেত্রে ও প্রতিষ্ঠানে নারীদের উপস্থিতি মানিয়ে নেওয়া এবং তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়টি দিনে দিনে ইতিবাচক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারী নেতৃত্বকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইন, সুযোগ-সুবিধা ও ব্যাংক ঋণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সরকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এখনও কিছু বাধা রয়ে গেলেও তা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। তবে আমরা এখনও নারী ও পুরুষ উভয়কে সমানভাবে স্বাগত জানানোর জন্য মুক্ত সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। নারীদের পথচলায় আরও একটি বড় বাধা হলো নিরাপত্তার অভাব।

নারী নেতৃত্বের সফলতার মানদণ্ড এবং নারীর অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। আমি বিশ্বাস করি, সফল নারী নেতৃত্ব বিচারের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব পর্যায়ে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়। একজন মানুষকে লিঙ্গের ভিত্তিতে নয়, বরং তার সম্ভাবনা, যোগ্যতা ও জ্ঞান দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্তব্য থাকে, যার মধ্যে অন্যতম হলো কাজের এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে চাকরি, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণের জন্য মনোয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য বা পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। এমনকি অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যে কোনো দায়িত্ব নির্দ্বিধায় যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের দেওয়া হবে।

একজন নারীকে শুধু কর্মস্থল নিয়েই নয়, পাশাপাশি ভাবতে হয় পরিবার নিয়েও। কর্মক্ষেত্রে প্রত্যেকে একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আমরা সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করি। ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনের মধ্যকার ভারসাম্য বজায় রাখতে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ রাখা উচিত নয়। নারী-পুরুষ উভয়ের পরিবারের মতোই কর্মক্ষেত্রেও সমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়।

নারী নেতৃত্ব নিয়ে মতভেদ থাকলেও যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। যোগ্যতার বাইরেও দরকার নেতৃত্বদানের জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রশিক্ষণ। জেটিআইয়ের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের বিকাশই মুখ্য। এই বিকাশ শুধু কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই নয়, পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও তাদের ক্ষমতায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

পাশাপাশি উৎসাহ ও পুরস্কার কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে পারে। আমার মতে, কর্মীদের বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য জেটিআইয়ের মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও এগিয়ে আসা উচিত।