স্বাধীনতার ঘোষক কে? এ নিয়ে একসময় জনমনে বিভ্রান্তি থাকলেও এটি এখন অনেকটাই পরিস্কার সবার কাছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে আটক হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে। আর কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান। যেটি সম্প্রচারিত হয় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে। পরে ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন মেজর জিয়াউর রহমান। এরই মধ্যে বেতার কর্মীরা নিজেদের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাটি বারবার প্রচার করেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে।

১৯৭১ সালের ২৩-২৪ মার্চের দিকে চট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্রের ১০ জন সাহসী তরুণ কর্মকর্তা ট্রান্সমিটার দিয়ে গোপন স্থানে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র স্থাপন করে সম্প্রচার শুরু করেন। তারা হলেন- বেলাল মোহাম্মদ, সৈয়দ আব্দুস সাকের, মোস্তফা মনোয়ার, আব্দুল্লাহ আল ফারুক, আবুল কাসেম সন্দ্বীপ, আমিনুর রহমান, রাশেদুল হোসাইন, এ এম শরাফুজ্জামান, কাজী হাবীব উদ্দিন ও রেজাউল করিম চৌধুরী। তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন বেগম মোস্তারি শফী, ডা. মোহাম্মদ শফী, ডা. সৈয়দ আনোয়ার আলী, প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম ও দিলীপ চন্দ্র দাস।

প্রথমদিকে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের ১ কিলোওয়াট প্রচারযন্ত্রে চট্টগ্রাম ও তার আশপাশের লোকজন শুনছিল। কিন্তু স্বাধীনতার বার্তা তো পৌঁছে দিতে হবে সারা বাংলায়। তাই বেতার কর্মীরা বহু কষ্টে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে ১০ কিলোওয়াট প্রচারযন্ত্র সংগ্রহ করে। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের নিরাপত্তার কথা ভাবা হচ্ছিল তখন। বেতার কর্মীরা জানতে পারেন, পটিয়াতে একজন মেজর আছেন। তিনি সোয়াতের অস্ত্র নামানোর জন্য প্রায় দেড়শ সৈন্য নিয়ে হেডকোয়ার্টারের বাইরে আছেন। এ খবর শুনে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পটিয়া যান। তার অনুরোধে জিয়াউর রহমান পটিয়া থেকে সেনাসদস্য নিয়ে কালুরঘাটে আসেন বেতারকেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য। তারা সন্ধ্যায় আসেন বেতারকেন্দ্রে।

এবার পালা স্বাধীনতার ঘোষণা ব্যাপক আকারে প্রচারের। তখন বেলাল মোহাম্মদ ভাবেন, একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করলে সেটি জনমনে বেশি প্রভাব ফেলবে। এরপর মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেন। আর এই বেতার কর্মীদের বিচক্ষণতার জন্যই মেজর জিয়াউর রহমানের পাঠকৃত ভাষণ সারা বাংলাদেশে পৌঁছে যায়।

২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এ বছর সেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সেইসব বেতার কর্মীদের স্মরণ করি কৃতজ্ঞচিত্তে।