করোনা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতে সরকারের সমালোচনামূলক টুইটার পোস্টগুলো সরিয়ে নেওয়ার সরকারি নির্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির হাজার হাজার মানুষ। একজন টুইটার ব্যবহারকারী সরকারের পক্ষে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার চেয়ে টুইটগুলো মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া সহজ বলে ব্যঙ্গও করেছেন।

এদিকে টুইটারের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, তারা ভারতে কিছু পোস্ট সরানোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মানে হলো সরকাববিরোধী হিসেবে মনে করা যায়, এমন কিছু পোস্ট তারা ভারতের জনগণের কাছ থেকে আড়াল করে দিয়েছেন। খবর বিবিসির।

ভারতের বেশিরভাগ হাসপাতালে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে দেশটি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। অক্সিজেনসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে এগিয়ে আসে অনেক দেশ। সোমবার ভারতে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৯১টি নতুন সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৮১২ জন মারা গেছেন। এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ একদিনের সর্বোচ্চ সংক্রমণ।

এর মধ্যে দেশজুড়ে সরকারের অব্যবস্থাপনাকে কটাক্ষ করে নানা রকমের সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় সরকার টুইটগুলোর ওপর সেন্সরের আদেশ দেয়।

টুইটারে ঠিক কোন বিষয়টি সরকারকে প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য করেছে, তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। সংবাদ মাধ্যমগুলো বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের একজন রাজনীতিবিদের একটি টুইট রয়েছে যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কোভিডের মৃত্যুর জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা হয়েছে এবং সংক্রমণের আশঙ্কা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক সমাবেশ করার জন্য তার সমালোচনা করা হয়েছে।

একটি টুইটারে বলা হয়েছে, দিল্লিতে এমনকি শান্তিতে মরাও যায় না। টুইটার বলেছে, তারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছ থেকে তথ্য প্রযুক্তি আইন-২০০০ অনুসারে আইনি অনুরোধ পেয়েছে।

অপরদিকে বিজেপির মুখপাত্র গোপাল আগরওয়াল বলেন, আমরা দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এমন ভুয়া খবর প্রচার করতে দিতে পারি না। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে।