২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ সভায় ২৮ এপ্রিল দিনটিকে 'জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে থেকে ২৮ এপ্রিল দিনটি জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিকভাবেই এ বছর দিবসটি পালনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই।

আইনগত সহায়তা কী


বিচার প্রক্রিয়ার আগে বা পরে কিংবা যে কোনো স্তরে কোনো ব্যক্তিকে আইনি বিষয়ে প্রয়োজনীয় যে কোনো সহায়তা দেওয়াকেই আইনগত সহায়তা বলা হয়ে থাকে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের সংবিধানেই সমতা ও বিচার প্রার্থীর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।' সংবিধানের এ অনুচ্ছেদ মূলত ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে বর্ণিত ৭ অনুচ্ছেদের প্রতিফলন। ওই ঘোষণাপত্রের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং কোনো রকম বৈষম্য ছাড়াই আইনগত নিরাপত্তা লাভের সমান অধিকারী। কোনো রকম বৈষম্য ছাড়াই এ ঘোষণা ভঙ্গ এবং সে রকম বৈষম্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে সবারই সমান অধিকার রয়েছে। ৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'যেসব কাজের ফলে শাসনতন্ত্র বা আইন কর্তৃক মৌলিক অধিকারগুলো লঙ্ঘন করা হয়, তার জন্য উপযুক্ত জাতীয় বিচার লাভ বা আদালতের মারফত কার্যকর প্রতিকার লাভের অধিকার প্রত্যেকেরই আছে।'

রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক আর্থিক অভাব-অসচ্ছলতার কারণে আইন বা বিচারের আশ্রয় গ্রহণ বা প্রবেশ করতে (অ্যাপেস টু জাস্টিস) পারবে না- এটি কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যাশিত নয়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক যদি তার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, তবে সংবিধানে বর্ণিত আইনের শাসন, সমতা, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের বিধান অর্থহীন হয়ে পড়বে। সেজন্যই আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসহায়, রাষ্ট্রের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ, বিচারের দ্বারস্থ হতে ও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে- সেজন্যই প্রয়োজন আইনগত সহায়তা। আইনগত সহায়তার মূল উদ্দেশ্যই হলো অভাবী, অসচ্ছল, সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের আইন-আদালত কিংবা মামলা-মোকদ্দমায় প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করা।

দ্য ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস আইনগত সহায়তার ধারণা দিতে গিয়ে বলেছে, 'লিগ্যাল এইড ইনক্লুডস দ্য প্রোভিশন্স অব লিগ্যাল অ্যাডভাইস অ্যান্ড রিপ্রেজেন্টেশন ইন দ্য কোর্ট টু অল দোস থ্রেটেন্ড অ্যাজ টু দেয়ার লাইফ, লিবার্টি, প্রোপার্টি অর রেপুটেশন, হু আর আনঅ্যাবল টু পে ফর ইট।'

'আইনগত সহায়তা'র সবচেয়ে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা পাওয়া যায় জাতিসংঘ প্রণীত ড্রাফট ইউএন প্রিন্সিপালস অ্যান্ড গাইডলাইন্স অন অ্যাপেস টু লিগ্যাল এইড ইন ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমস শীর্ষক নীতিমালায়। ওই নীতিমালার প্রথম ভাগের ৬নং ক্রমিকে 'আইনগত সহায়তা'র সংজ্ঞায় বলা হয়, 'দ্য টার্ম লিগ্যাল এইড ইনক্লুডস লিগ্যাল অ্যাডভাইস, অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড রিপ্রেজেনটেশন ফর ভিক্টিমস অ্যান্ড ফর অ্যারেস্টেড, প্রসিকিউটেড অ্যান্ড ডিটেইন্ড পারসন্স ইন দ্য ক্রিমিন্যাল জাস্টিস প্রসেস, প্রোভাইডেড ফ্রি অব চার্জ ফর দোস উইদাউট মিনস। ফারদারমোর, 'লিগ্যাল এইড' ইজ ইনটেনডেড টু ইনক্লুড দ্য কনসেপ্টস অব লিগ্যাল অ্যাডুকেশন, অ্যাপেস টু লিগ্যাল ইনফরমেশন অ্যান্ড আদার সার্ভিসেস প্রোভাইডেড ফর পারসন্স থ্রো অলটারনেটিভ ডিজপুট রেজুলেশন মেকানিজমস অ্যান্ড রেসটোর‌্যাটিভ জাস্টিস প্রোসেসেস।'

আইন সহায়তা কার্যক্রম


বাংলাদেশে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে আইন সহায়তা কার্যক্রম দীর্ঘদিন থেকে চলমান। রাষ্ট্রের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের আইনগত সহায়তা দেওয়ার সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতির কারণেই ২০০০ সালে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন সংসদে গৃহীত হয় এবং ২০০০ সালের ৪ জুন এক প্রজ্ঞাপন দ্বারা একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে 'জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা' প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০০১ এবং আইনগত সহায়তা প্রদান প্রবিধানমালা-২০০১ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তন হলে সরকারিভাবে আইন সহায়তার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

বর্তমান সরকার ২০১৪ সালে আগের নীতিমালা বাতিল করে ২০১৪ সালে নতুনভাবে 'আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা-২০১৪' এবং 'আইনগত সহায়তা প্রদান প্রবিধানমালা-২০১৫' প্রণয়ন করে। এ ছাড়া প্রণীত হয় 'জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন দায়িত্ব, কার্যাবলি ইত্যাদি) প্রবিধানমালা, ২০১১' এবং 'আইনগত সহায়তা প্রদান (আইনি পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) প্রবিধানমালা, ২০১৫'। উপরোক্ত নীতিমালাগুলো প্রণীত হওয়ায় ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগী ভূমিকার কারণে সরকারি পর্যায়ে আইন সহায়তা কার্যক্রম নতুন গতি লাভ করে, বিস্তৃত হয় এ কার্যক্রম। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের ৬৪টি জেলায় সরকারিভাবে আইন সহায়তা কার্যক্রম চালু আছে।

প্রতিটি জেলায় পৃথক অফিস স্থাপন করে একজন সহকারী জেলা জজকে লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে এবং জেলা ও দায়রা জজ পদাধিকার বলে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চৌকি ও শ্রম আদালতগুলোও আইন সহায়তা কার্যক্রম চালু আছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আইন সহায়তা কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে, তবে বাস্তব সত্য এই যে, উপজেলা এবং ইউনিয়ন কমিটিগুলোর তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কার্যক্রম মূলত শুরু হয়েছে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে।

সরকারিভাবে আইন সহায়তা যারা পেয়ে থাকেন


আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০১৪ অনুযায়ী সরকারিভাবে আইন সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা হচ্ছেন- ক. আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তি, যার বার্ষিক গড় আয় সুপ্রিম কোর্টে আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য আদালতের ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে নয়; খ. অক্ষম, আংশিক কর্মক্ষম, কর্মহীন কোনো ব্যক্তি; গ. বার্ষিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করতে অক্ষম কোনো মুক্তিযোদ্ধা এবং কোনো শ্রমিক, যার বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ টাকার বেশি নয়; ঘ. এরা ছাড়াও আরও যারা আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন- শিশু, মানবপাচারের শিকার যে কোনো ব্যক্তি, শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু, নিরাশ্রয় ব্যক্তি বা ভবঘুরে, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তি, পারিবারিক সহিংসতার শিকার অথবা সহিংসতার ঝুঁকিতে আছেন এরূপ যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন এ রকম কোনো ব্যক্তি, ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ মাতা, অ্যাসিডদগ্ধ নারী বা শিশু, আদর্শ গ্রামে গৃহ বা ভূমি বরাদ্দপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, অসচ্ছল বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত এবং দুস্থ নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আর্থিক অসচ্ছলতার দরুণ আদালতে অধিকার প্রতিষ্ঠা বা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে অসমর্থ ব্যক্তি, বিনা বিচারে আটক এমন কোনো ব্যক্তি যিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, আদালত কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অসচ্ছল বলে বিবেচিত ব্যক্তি, জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অসচ্ছল বলে সুপরিশকৃত বা বিবেচিত কোনো ব্যক্তি, আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সংস্থা কর্তৃক সময় সময় চিহ্নিত আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন, নানাবিধ আর্থসামাজিক এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, যিনি আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্বীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার মামলা পরিচালনায় অসমর্থ।

সরকারি আইন সেবার সীমাবদ্ধতা রয়েছে বিশেষত আর্থিক সীমারেখা নির্ধারণ করায়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি যার বার্ষিক গড় আয় এক লাখ টাকার নিল্ফেম্ন, তিনিই শুধু নিম্ন আদালতে সরকারি আইনগত সহায়তা পাবেন এবং সুপ্রিম কোর্টের ক্ষেত্রে গড় আয় দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২০১৭ সালে জাতীয় আইনগত প্রদান সংস্থার বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যে ব্যক্তির ওপর আয়কর প্রযোজ্য নয়, তিনি সরকারি আইনগত সহায়তা পাবেন। কিন্তু অদ্যাবধি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বর্তমান আর্থিক সীমারেখার গণ্ডি অতিক্রম করে রাষ্ট্রের বিপুল সংখ্যক অসচ্ছল-দরিদ্র নাগরিককে সরকারি আইনি সহায়তা প্রদান সম্ভব হবে।

আইনি সহায়তার ক্ষেত্র


সামগ্রিক বিবেচনায় আইন সহায়তার ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে- (১) আইনগত পরামর্শ দান, (২) লিগ্যাল সাপোর্ট অর্থাৎ বিচার প্রার্থীর পক্ষে মামলা দায়ের ও পরিচালনা করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাগজপত্র সংগ্রহ, মামলার মুসাবিদা প্রস্তুতকরণ, (৩) আদালতে মামলা পরিচালনা ও আইনি নিয়োগ, (৪) কাউন্সেলিং অর্থাৎ বিরোধের সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোকে কাউন্সেলিংয়ের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উদ্বুদ্ধ করে তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের চেষ্টা করা, যাতে সমস্যা আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ পরিবেশে নিজের সার্বিক উন্নতি করতে সক্ষম হন, (৫) পুনর্বাসনমূলক আইনগত সহায়তা অর্থাৎ লিগ্যাল এইডের ম্যাধমে জেল থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ যাতে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত হতে পারে সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সরকারিভাবে আইনি সহায়তা কার্যক্রমে পুনর্বাসনমূলক আইন সহায়তার বিষয়টি অনুপস্থিত। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে পুনর্বাসনমূলক লিগ্যাল এইডের ধারণাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবত ২০১৯ সালে জাতীয় সংসদের কোনো এক অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনর্বাসনমূলক আইন সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে বক্তব্য রেখেছিলেন। আশা করা যাচ্ছে, পুনর্বাসনমূলক আইনগত সহায়তা প্রদানে যাবতীয় নীতিমালা দ্রুতই প্রণীত হবে।

বিকল্প পন্থায় বিরোধ নিষ্পত্তি


২০১৫ সালে আইন সহায়তা প্রদান (আইনি পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিধিমালা) ২০১৫ প্রণীত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্যই হলো সামাজিক রীতি-নীতি বজায় রেখে কম সময়ে ও খরচে পক্ষগণের ভোগান্তি এড়িয়ে উভয়পক্ষের জয়সূচক ফলাফল (উইন উইন আউটকাম) নিশ্চিত করা। আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছে বিকল্প পদ্ধতি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিচারাধীন কোনো বিষয়ে প্রেরণ করার বিধান রাখা হয়েছে। লিগ্যাল এইড অফিসার কর্তৃক মীমাংসা চুক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিবেদন একটি বৈধ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং যে কোনো আইনগত কার্যধারায় সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হবে। এ ধরনের ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সহকারী জজ হওয়ায় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে কোনো মামলার বিরোধ নিষ্পত্তি সুযোগের এখতিয়ারের প্রশ্নটি এখনও অনিষ্পন্ন রয়েছে। সুতরাং সব বিতর্ক এড়ানোর জন্য বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রমকে গতিশীল ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সহকারী জজের পরিবর্তে যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগের বিষয়টি চিন্তা করা যেতে পারে।

আইনগত সহায়তা দিবস পালনের উদ্দেশ্য

আইনগত সহায়তা দিবসের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের সব অসচ্ছল, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত নাগরিককে আইনের আশ্রয় লাভ ও বিচারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সচেতনতা তৈরি করা, পথ দেখিয়ে দেওয়া। আইন সহায়তা সম্পর্কে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও ব্যাপক কার্যক্রম ও কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। দেশে সরকারি আইন সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন আইন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আইন সহায়তা কার্যক্রমে আইনজীবী সমাজ অর্থাৎ বার কাউন্সিল ও আইনজীবী সমিতিগুলোর যথেষ্ট অগ্রণী ভূমিকার প্রয়োজন, যার ঘাটতি রয়েছে। আইন সহায়তা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে দেশের সব স্তরের আদালতগুলোর যথেষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। সংশ্নিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রের অসচ্ছল-দরিদ্র-সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আইন ও বিচারে প্রবেশাধিকার (অ্যাপেস টু জাস্টিস) নিশ্চিত হোক- এই হোক আইন সহায়তা দিবসের অঙ্গীকার। রাষ্ট্রের প্রত্যয়-

'বিচার পাওয়ার অধিকার-

গরিব-ধনী আছে সবার।'



মন্তব্য করুন