আমরা জাতি হিসেবে সচেতন হলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সমস্যা থাকার কথা নয়। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। কোথায়, কখন, কেন এবং কীভাবে ভালোবাসি- এসব প্রশ্নের সঠিক জবাব খুঁজে বের করে সেই মোতাবেক কাজ করতে পারলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ পাওয়া সম্ভব।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর হৃদয়ে বইছে এখন কীভাবে সম্ভব দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ পেতে পারি তার জোয়ার। ছোটবেলার স্লোগান ছিল মুক্তির স্লোগান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের স্লোগান। এখনকার স্লোগান দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামের স্লোগান।

তখন যারা মুক্তির সংগ্রামে যোগ দেয়নি বরং বাধা হিসেবে কাজ করেছে, তাদের বলতাম রাজাকার। এখন যারা দুর্নীতিমুক্ত করতে বাধা হবে তাদের বলব বেইমান, নিমকহারাম এবং ছিনতাইকারী। এদের চিরতরে ধ্বংস করতে হবে এবং যারা এ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন, প্রকৃতপক্ষে তারাই হবেন সোনার বাংলার নাগরিক। তারাই হবেন সোনার বাংলা গড়ার মুক্তিযোদ্ধা। তবে হুট করে কিছু করা ঠিক হবে না। আইয়ুব খানের বুলি ছিল দুর্নীতিমুক্ত পাকিস্তান বানাতে হবে। দেখা গেল শুরু থেকে দুর্নীতিই হলো পাকিস্তানের নীতি, যার কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। আর তার দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এক উদ্ভট ব্যবস্থার উদ্ভাবন করা হলো সেটি হলো, মৌলিক গণতন্ত্র। যে মৌলিক গণতন্ত্রীদের কাজই ছিল দুর্নীতির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকা।

কারণ গাছের ওপর যখন পরগাছা জন্মায়, তখন বেশ সতর্কতার সঙ্গে আগাছাকে পরিস্কার করতে হয়, নইলে মূল গাছটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, এমনকি মারাও যেতে পারে। ঠিক তেমনিভাবে আমাদের নিজেদের মধ্যে যেসব দুর্নীতিবাজ বিরাজ করছে, তাদের সরাতে গিয়ে দেশপ্রেমিক এবং আত্মত্যাগী ভালো মানুষগুলো যেন বিলীন হয়ে না যান, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বর্তমানের দুর্নীতিবাজরা কিন্তু পরগাছা নয়, এরা নিজেরাও মূল গাছেরই একটি অংশ। পাকিস্তানিরা উড়ে এসে পরগাছার মতো জুড়ে বসেছিল। তার পরও তাদের উচ্ছেদ করতে প্রায় দুই যুগ সময় লেগেছে। বিনিময়ে ৩০ লাখ মানুষের জীবনসহ মা-বোনের ইজ্জত হরণ এবং মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে, একই সঙ্গে সবকিছুর মোকাবিলা করতে হবে খুব সতর্কতার সঙ্গে। বাংলাদেশের দুর্নীতির ধরন অনেকটা ব্লাড ক্যান্সাসের মতো। শরীরের ব্লাড ক্যান্সার হলে তাকে নির্মূল করা খুব কঠিন কাজ। ঠিক দুর্নীতিগ্রস্ত বাংলার মানুষদের চিরতরে ধ্বংস করা কঠিন একটি চালেঞ্জ জাতির জন্য। প্রথমে কিছু হোমওয়ার্ক করতে হবে। প্রয়োজন একটি টু ডু লিস্ট তৈরি করা। তার আগে আমরা যে বাঙালি জাতি তার পরিচয় এবং মিশন, ভিশন ও পলিসি সম্পর্কে অবগত হতে হবে। যেমন কী, কেন, কখন, কীভাবে, কার জন্য ইত্যাদি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর জানতে হবে। জানতে হবে নতুন করে কী উদ্দেশ্যে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম, যেটা চেয়েছিলাম সেটা পেয়েছি কি? উত্তর যদি না হয় তাহলে কেন সেটা পাইনি তা জানতে হবে।

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ পেতে বিসর্জন দিতে হবে অনেক কিছু। যেমন নিজ এবং পরিবারের মধ্যেই যে দুর্নীতি বিরাজ করছে সেটাকে ধ্বংস করতে হবে আগে। তারপর দেশের পরিকাঠামোর ওপর কড়া নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী এবং বহির্বিশ্বের প্রভাব যেন না পড়ে অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানে সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

এসব কাজ সঠিকভাবে মনিটর করতে দরকার একটি বিশেষ ব্যবস্থা। এর একটি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা থাকবে, যেমনটি ছিল দেশ স্বাধীনের সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতি ছিল। বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিলে তা সফল হবে না।


মন্তব্য করুন