প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ জন সৌদি আরব ও কুয়েতগামী প্রবাসী কর্মী ঢাকার সাত হাসপাতাল থেকে ফাইজারের করোনা টিকা পাবেন। 

প্রথম ডোজ গ্রহণের ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন প্রবাসীরা। অন্যান্য দেশগামী কর্মীরাও টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে তারা ফাইজারের টিকা পাবেন না।

প্রবাসী কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ ও ওয়েবে টিকার নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ। 

সোমবার অনলাইনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ জানান, কর্মীদের কোয়ারেন্টাইন খরচ বাঁচাতেই তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে। আপাতত সৌদি ও কুয়েতগামীদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য শ্রমবাজার করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে। সেসব কর্মী যাওয়া শুরু হলে, তাদের চাহিদা অনুযায়ীই টিকা দেওয়া হবে। ফাইজারের এক ডোজ টিকা নেওয়ার ১৪ দিন পর সৌদি যেতে পারবেন কর্মীরা। তবে তার আগে অবশ্যই দেশটির নির্ধারিত 'তাওয়াক্কাল' অ্যাপে নিবন্ধন করে টিকার তথ্য দিতে হবে।

গত শুক্রবার সকাল থেকে প্রবাসী কর্মীদের টিকা দিতে বিএমইটি নিবন্ধন শুরু হয়েছে। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় এবং 'আমি প্রবাসী' অ্যাপে এই নিবন্ধন চলছে। 

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, যেসব কর্মী ইতিমধ্যে বিএমইটিতে নিবন্ধিত হয়েছেন তারা সোমবার মধ্যরাত থেকেই ‘সুরক্ষায়’ নিবন্ধন করতে পারবেন। টিকা দেওয়ার অন্তত একদিন কর্মীদের এসএমএসের মাধ্যমে টিকার কেন্দ্র ও সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘ফাইজারের টিকা মাইনাস ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। মানবদেহে তা প্রয়োগের আগে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলিয়ে ব্যবহার উপযোগী করতে হয়। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ, তাই প্রতিটি কেন্দ্র থেকে দিনে ২০০ জনের বেশি প্রবাসীকে টিকা দেওয়া যাবে না। সংরক্ষণ জটিলতার কারণে ঢাকার বাইরে এই টিকা দেওয়া সম্ভব নয়।’ 

তিনি জানান, মর্ডানার টিকা সিটি করপোরেশন পর্যায়ে দেওয়া হবে। তা নিবন্ধন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিতে পারবেন বিদেশগামীরা। চীনের তৈরি সিনোফর্মের টিকা জেলা হাসপাতালেও পাওয়া যাবে।

মর্ডানা, ফাইজার, অক্সফোর্ড এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা নেওয়া থাকলে সৌদি ও কুয়েত দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন প্রয়োজন। এতে কর্মী প্রতি অন্তত ৭০ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। তবে চীনের টিকা নিলে কোয়ারেন্টাইন করতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত সশরীরে ১২ হাজার এবং অ্যাপে ৯ হাজার কর্মী নিবন্ধিত হয়েছেন। শুধু সৌদি, কুয়েতগামী নন অন্যান্য দেশে যেতে ইচ্ছুক কর্মীরাও নিবন্ধন করেছেন।

বিএমইটির নিবন্ধন করতে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়গুলোতে উপচেপড়া ভিড় হচ্ছে। অ্যাপে নিবন্ধনেও ভোগান্তি হচ্ছে টাকা পরিশোধে। গতকালও একই অবস্থা ছিল। অ্যাপে নিবন্ধন কর্মীদের পাসপোর্টের বৈধতা যাচাইয়ে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। সশরীরে নিবন্ধনেও সার্ভার জটিলতা দেখা দেওয়ায় ভোগান্তি হচ্ছে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আইয়ুব চৌধুরী জানান, যাচাইয়ের কাজটি তারা করেন না, করে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। সংস্থাটির চাহিদা অনুযায়ী ডাটা সরবরাহ করা হচ্ছে। সোমবার ১৩ হাজার পাসপোর্টের তথ্য দেওয়া হয়েছে। আরো ১৮ হাজার পাসপোর্টের তথ্য ম্যানুয়েলি প্রসেস করা হয়েছে।

এনটিএমসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান বলেন, ‘অনেক কর্মীই ভুলবশ ভুল তথ্য দেন। পাসপোর্টে যে জন্ম তারিখ রয়েছে, তা না দিয়ে অন্য তারিখ দিচ্ছেন। এতে যাচাইয়ে বেশি সময় লাগছে। ডাটারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

ভোগান্তি এড়াতে সন্ধ্যার পর অ্যাপে নিবন্ধনের পরামর্শ দিয়েছেন বিএমইটির মহাপরিচালক শহীদুল আলম। 

কোন দেশ কোন টিকাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে তার আনুষ্ঠানিক তথ্য জানা নেই বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ সচিব। 

ইউরোপের দেশগুলোতে চীনের টিকা স্বীকৃত নয়। তাদের ফাইজার, মর্ডানা, জনসন এন্ড জনসন বা অক্সফোর্ডের টিকা না দিলে কর্মীরা কিভাবে কর্মস্থলে যাবেন। 

তিনি বলেন, ‘যে দেশে যে টিকা স্বীকৃত কর্মীদের তাই দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।ইউরোপের দেশগুলো পাসপোর্টেই টিকার তথ্য সংযোজন করছে। ফলে আলাদা করে টিকা সনদ লাগছে না।’