বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্যকলা বিভাগের এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জারে যৌন হয়রানির বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এই কমিটি গঠন করা হয়। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনিও একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। এ ঘটনায় উসকানি দিয়েছেন আরও তিন শিক্ষার্থী।

তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রী আমাকে সরাসরি অভিযোগ করেনি। তবে ওই ব্যাচের সিআর আমাকে মেইল করে অভিযোগ দিয়েছে। আমি সেটি প্রিন্ট করে উপাচার্য স্যারকে দিয়েছি। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগ চলছে আলোচনা:

বুয়েটের এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। ফেসবুকে অভিযুক্ত চার ছাত্রের ছবি এবং তাদের মেসেঞ্জারের কথোপকথনের স্ক্রিনশট ঘুরছে। এগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া এই চার শিক্ষার্থী বিশেষ করে মূল অভিযুক্তের ছবি দিয়ে বানানো হচ্ছে নানা ধরনের মিম। সেগুলো শেয়ার হচ্ছে ঝড়ের গতিতে।

ট্রল থেকে রেহাই পাচ্ছে না বুয়েট এবং ওই চার শিক্ষার্থী বুয়েটে ভর্তির আগে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, সেসব প্রতিষ্ঠান। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে ‘বুয়েটিয়ান’সহ বিভিন্ন গ্রুপে এবারের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেভাবে একজোট হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন, তার প্রশংসাও চলছে।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের ছবি দেওয়া হচ্ছে। তদন্তের সময় অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙখলা কমিটির সুপারিশক্রমে যেহেতু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেহেতু এর আগে এই বিষয়ে কিছু না বলাই ভালো। এসময় তিনি গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের জন্যে অনুরোধ করেন।

জানা গেছে, অভিযুক্ত জারিফ হোসাইন ভুক্তভোগী নারী সহপাঠীকে পছন্দ করতেন। তবে ভুক্তভোগীর কাছে অনুরূপ সাড়া না পেয়ে পরবর্তীতে যৌন হয়রানি শুরু করেন। পরবর্তীতে জারিফ ও তার তিন বন্ধু মিলে একটি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে পরিকল্পনা করে মেয়েটিকে একের পর এক নিজের অর্ধনগ্ন ছবি পাঠাতে থাকেন।

এই ঘটনা ওই নারী শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানালে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এরপর তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা আসে।