আবারও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। এবার আপত্তিকর ক্যাপশন দিয়ে ৭৩ ছাত্রীর ছবি প্রকাশ করেছে ক্রাশ অ্যান্ড কনফিউশান নামে একটি ফেসবুক পেজ। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এর আগে ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারে ছাত্রীরা হয়রানির শিকার হলেও যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়নসহ অনেকে নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।

জানা গেছে, ক্রাশ অ্যান্ড কনফিউশান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ নামে একটি ফেসবুক পেজে 'ইবি কাঁপানো সকল সুন্দরী একসাথে, ইমো নাম্বার পেতে লাভ রিয়েক্ট দিয়ে সঙ্গেই থাকুন' ক্যাপশন দিয়ে ৭৩ ছাত্রীর ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা স্ট্যাটাস দিয়ে নিন্দা জানাতে শুরু করলে রাত ১২টার দিকে পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়। পরে দুঃখ প্রকাশ করে ফের পেজটিতে পোস্ট করা হয়। পেজটিতে আগেও বিভিন্ন ছাত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছাত্রলীগের কর্মী মিজান বিশ্বাসের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি পেজটির অ্যাডমিন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'পেজে অনেক দিন কিছু পোস্ট করা হয় না। তাই মজা করে করেছি।' 

মিজান কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী।

এ বিষয়ে ইবি প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। কারা পেজটি চালায়, তা দেখতে আইসিটি সেল কাজ করছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

ইবি উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।