বাঙালি জাতির দীর্ঘ ইতিহাসে ৭৫ বছর অনেক সময় নয়, কিন্তু এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের দুর্ভাগ্যকে মোকাবিলা করে সবার জীবনে স্বস্তির সুবাতাস নিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর পরিশ্রম, মানবপ্রেম সমস্ত জীবের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে তাদের সবার জন্য একটি সহনীয় এবং সম্ভব হলে শান্তিময় জীবনের সম্ভাবনাকে সফলভাবে কার্যকর করার জন্য শক্তি, সামর্থ্য ও কৌশল ব্যবহার করেছেন সাধারণভাবে শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে ভাষায় তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব, দুঃখী ও সহায় সম্বলহীন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনে যে শুভ পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনেছেন, তা তাদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে নিশ্চিত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে তাদের সাহায্য করেছেন।

বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে যেখানে গ্রামবাংলা সন্ধ্যা ৬টা হতেই সূর্য ডুবে গেলে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যেত, সেই বাংলায় শেখ হাসিনা প্রতিটি ঘরে আলো জ্বালিয়ে প্রত্যেক পরিবারের জন্য বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। যে দেশে প্রত্যেক পরিবারের পক্ষে সকল সন্তানের লেখাপড়ার কোনো বন্দোবস্ত আগে ছিলই না, ভাগ্যক্রমে কোনো গ্রামে প্রাইমারি স্কুল থাকলে তাদের ছেলেমেয়েরা প্রাথমিক শিক্ষা কখনও কখনও সমাপ্ত করতে পারত, মেট্রিক পর্যন্ত পড়া যাদের ভাগ্যে জুটত, তাদের হাতে গোনা যেত। মেয়েদের এমনকি নবাবপরিবারের সন্তান বেগম সুফিয়া কামাল হলেও বা সমাজসচেতন বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলেও প্রাথমিক শিক্ষার বেশি তাদের জন্য কোনো সুযোগ করা যেত না। সেই দেশে আজ শেখ হাসিনা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত সকলের জন্য সমস্ত খরচ সরকার থেকে দিয়ে প্রতিটি পরিবারকে শিক্ষাক্ষেত্রে যোগ্য করার পদক্ষেপ নিয়েছেন।

প্রত্যেক বিধবা মহিলাকে সরকারি অর্থ সহায়তা দিয়ে, প্রত্যেক স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাকে আর্থিক অনুদান দিয়ে, তাদের দুর্বিষহ জীবন ক্ষুধা থেকে মুক্ত করে আনতে সক্ষম হয়েছেন। আপনার একাগ্র প্রচেষ্টায় দেশে খাদ্য উৎপাদন পাঁচগুণ হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা বাড়িয়ে কৃষককুলকে শুধু স্বাবলম্বী করেননি, তাদের সফলতার ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। উদ্বৃত্ত খাদ্য বৈদেশিক মুদ্রায় বিক্রি করে পুরো দেশই উপকৃত হয়েছে।

দেশে অতীতে জনসাধারণ সুপেয় পানির অভাবের কারণে, কুয়োর পানি খেয়ে রোগভোগ করে অকালে জীবন দেওয়া একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। শেখ হাসিনা সমস্ত জনগণের জন্য এই পানি যার অপর নাম প্রাণ সরবরাহ করে রোগভোগকে সীমিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে, শিশুমৃত্যুর হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি আনা সম্ভব হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করে তার সুফল গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত প্রসারিত করে এ সময় দেশের মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছে। আমরা এখন রোগবালাই দূর করার জন্য গ্রামে,গ্রামে দাতব্য চিকিৎসালয় পাচ্ছি।

ইন্টারনেট ব্যবহার করে আইটি বিশেষজ্ঞরা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বিদেশ থেকে আয় করছে। কঠিন বা দুরারোগ্য রোগ হলে ইন্টারনেটের সাহায্যে পরামর্শ নিয়ে সকল রোগ উপশমের সরকারি তত্ত্বাবধানে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ ও দায়িত্ব গ্রহণ করে ডাক্তাররা আমাদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এর ফলে মানুষের আয়ু এখন ৭৫-এর কোঠার ওপরে চলে গেছে, যা ৩০ বছর আগেও ৪০-এর ঘরে ছিল।

সরকার প্রায় সকল সহায়-সম্বলহীন, বৃদ্ধ নারী-পুরুষ যাদের বয়স ষাটোর্ধ্ব এবং যারা কর্মক্ষম নয়, তাদের সবাইকে সরকারি ভাতার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন-যাপনের আর্থিক সহায়তার আওতায় নিয়ে এসেছে। আপনার সময়ে বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তাঘাটের উন্নতি হওয়ার ফলে এখন প্রায় সকল গ্রামে মোটরগাড়িতে করেও পৌঁছা সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এই ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সব সময়ের জন্য নিশ্চিত করে মেইনটেইন্যান্স এবং রিপেয়ারের জন্য যে অবিরাম তৎপরতা সরকারের উদ্যোগে রাখা হয়েছে, তার ফলে গ্রামের রাস্তাঘাট সবসময়ই চলার উপযোগী হয়ে আছে। দক্ষিণবঙ্গের ১৮টি জেলার সঙ্গে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগের যে নতুন সম্ভাবনা আপনার প্রচেষ্টায় নিশ্চিত হয়েছে তাতে ওই সমস্ত এলাকার জনগণের জনদুর্ভোগ বহুলাংশে লাঘব হবে।

অচিরেই চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল কপবাজারের সঙ্গে সারাদেশের স্থলপথে যোগাযোগ সহজ করবে এবং এর ফলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের জনগণের চলাচল বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে অভাবনীয় উন্নতিতে প্রভাব ফেলবে। আমাদের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা পোর্টকে যোগাযোগের জন্য আরও সহজ করার ফলে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে সরাসরিভাবে বৈদেশিক পণ্য কম সময়ের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল এই পোর্ট ব্যবহার করে বিশেষভাবে উপকৃত হবে। এই উন্নতি প্রভৃতির আরও লম্বা ফিরিস্তি দেওয়া যেত, কিন্তু জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে পাঠকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাই না।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বগ্রহণের প্রথম ৫ বছর, ১৯৯৬-২০০১ সময়ে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকারীদের হাত থেকে দেশের জনগণকে মুক্ত করার প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছিল শেখ হাসিনার পক্ষে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এবং একাত্তর সালের যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি বিধানের প্রাথমিক পদক্ষেপ এই সময়েই শেখ হাসিনা নিয়েছিলেন। নানা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফলে ২০০৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতা দেশদ্রোহী ঘাতক এবং তাদের অনুচরদের হাতে ছিল। যার ফলে দেশের উন্নতি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং দেশ বছরের পর বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পরিসংখ্যানে আখ্যায়িত হয়েছিল। আজ আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার সম্মান অর্জন করেছি। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে যে মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে বিশ্ববাসীর চোখে আমাদের যে অবস্থান ছিল, আজ সেখানে ফিরে আসা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ ২০২১ সালে কভিড মহামারির বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনার পর্যায়ে চলে এসেছে। এটি একটি অভাবনীয় সাফল্য। জলবায়ু দূষণ থেকে বিশ্ববাসীকে মুক্ত করার সংগ্রামে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আজ আমরা বিশ্বের দরবারে প্রশংসনীয় অবস্থানে চলে এসেছি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমাদের স্যাটেলাইট জগতে পরনির্ভরতা থেকে বের করে নিয়ে এসেছে। এরই ফলে আমরা এর মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করছি। আমাদের প্রায় ১ কোটির বেশি মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রুজি-রোজগার করে যে পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠাচ্ছে তার ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হুহু করে বেড়ে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা দেশে ও বিদেশে যে যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে তার ফলে সকল আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই ১৩-১৪ বছরে আমাদের অবস্থান সকলের কাছে স্বীকৃত হয়েছে এবং প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফোরামে আমরা নেতৃস্থানীয় অবস্থানে চলে আসতে পেরেছি। এতসব অর্জন সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব ও বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ এবং তার মানুষকে আস্থা, ভালোবাসা ও নির্ভরতার অবস্থানে নিয়ে আসার ফলে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের বাঙালি জাতিকে শুধু স্বাধীনতাই দেননি, শুধু দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে মাতৃভূমির জন্য অকাতরে জীবন দিতেই শেখাননি, তিনি আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে দীক্ষিত করেছিলেন। মানুষে, মানুষে বিভেদের সমস্ত সামাজিক স্তরকে ভেঙে দিয়েছিলেন। ধর্মে-ধর্মে, জাতি-জাতিতে, অঞ্চলে-অঞ্চলে, নারী-পুরুষে পূর্ণাঙ্গ এবং বিকলাঙ্গ মানুষের সবল ও দুর্বলে মানবসৃষ্ট সামর্থ্য-অসমর্থতা সমস্ত ব্যবধান ভাঙিয়ে বাঙালি জাতিকে একসূত্রে গেঁথে দিয়েছিলেন। দেশের সমস্ত সম্পদে, যে জনগণের মালিকানা তা নিশ্চিত করে একটি শাসনতন্ত্র দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ আলাদা করার নিশ্চয়তা করে দিয়েছিলেন সংবিধানের মাধ্যমে। শিক্ষাক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূর করে শিক্ষার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। দেশের সকল সম্পদ জনগণের কল্যাণে নিয়ে আসতে হলে সম্পদের সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সকলকে উদ্যোগী করেছিলেন। একমাত্র গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ যাতে পরিচালিত হয় তার জন্য জীবনের সকল স্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এবং রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হবে তা নিশ্চিত করে রেখে গিয়েছিলেন।

১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা, লুটেরারা ও তাদের বাংলাদেশি সহায়করা জাতির পিতা ও তার পরিবার-পরিজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলাকে পরাভূত করতে চেয়েছিল ও বাংলার জনগণের অধিকার হরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। সেদিন যে বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে অসহায় জীবনে বাংলার জনগণ নিপতিত হয়েছিল সে অবস্থা থেকে বাংলার দুর্ভাগা জনগণকে ফিরিয়ে আনতে কোনো নেতৃত্বই বঙ্গবন্ধুর মহিরুহ অবস্থানে ছিল না। বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলার জনগণ এমনভাবে পুরোপুরি নেতৃত্বহীন অবস্থায় নিপতিত হয়েছিল যা থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করার জন্য যে নেতৃত্ব দরকার ছিল, সে অবস্থায় অনুপস্থিত ছিল। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে অবস্থান করার ফলে শারীরিকভাবে বেঁচে থাকলেও পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় সেই বিয়োগবিধুর দিনে অবতীর্ণ হতে পারেননি।

ভারতের মায়াময়ী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতা দখলকারী বাংলাদেশের খুনি সরকারের তোয়াক্কা না করে সেদিন এই বোনদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। সেই দুর্দিনে বিপদগ্রস্ত বাঙালি জাতি স্বাধীনতার প্রাণপুরুষকে হারিয়ে তার যোগ্য সহধর্মিণী ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে হারিয়ে নেতৃত্ববিহীন অবস্থায় নাবালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর নেতারা ও কেন্দ্রীয় নেতারা কেউই সময় উপযোগী কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি বলেই সেদিন হত্যাকারীদের প্রতিহত করা গেল না। মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিকদের নেতৃত্বে দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ পরবর্তীকালে জেলের অভ্যন্তরে নৃশংস হত্যার শিকার সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী, এএইচএম কামারুজ্জামান ছাড়া সকলেই খুনি মোশতাকের কাছে ধরা খেয়ে গেল ও এই অবৈধ সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দিল।

এরপর যারা বাকি ছিল তাদের সকলকেই একত্র করে জেলের ভেতরে নিক্ষেপ করা হলো। আমাদের প্রথাগত নেতৃত্ব শূন্য হয়ে গেলো। এ অবস্থার মধ্যে দলীয় কর্মীরা ক্ষোভ, বেদনা, অপমান ও প্রতিবাদ করার সুযোগ না পেয়ে অপরিসীম হতাশার মধ্যে জীবন-যাপন শুরু করল। স্বাধীনতার সকল নীতি-আদর্শকে ভূলুণ্ঠিত করে এই নিকৃষ্ট শাসকরা পাকিস্তানি কায়দায় দেশকে লুটপাট করতে শুরু করে দিল। দেশের সর্বপ্রথম ও প্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ করে দিয়ে ও হলগুলোকে খালি করে দিয়ে কোনো প্রতিবাদ করার অবস্থা থেকে দূরে রাখতে শাসকদের ষড়যন্ত্র এই পর্যায়ে সফল হলো এবং আমাদের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা থেকে সে সময়ে বেরিয়ে আসতে পারলাম না।

শেখ হাসিনা সমস্ত পরিবার-পরিজনের ও নিকটাত্মীয়দের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ও ঠিকানাবিহীন অবস্থায় দিল্লিতে পৌঁছে সাময়িক আশ্রয়ের দিন যাপন করা অবস্থায়ই পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ পুনরুদ্ধারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। আজ তার জন্মদিনে সেই অমানিশার অন্ধকারের দিনগুলোর কথা প্রতিনিয়ত আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়, কারণ সেদিন যদি শেখ হাসিনা আমাদের অভিভাবকত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হতেন তবে, পাকিস্তানি অনুদাসদের হাত থেকে বাংলার জনগণকে উদ্ধার করা পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে যেত। তার জন্মদিনে এজন্য তার প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।

পরবর্তী ৬ বছর ১৯৮১ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রিটেনসহ সকল প্রবাসে স্বাধীনতার পক্ষের সকল মানুষ ও তাদের সমর্থক আন্তর্জাতিক বিশ্বের জনগণ ও নেতৃত্ব আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। দেশের মুক্তিযোদ্ধারা ও স্বাধীনতার সপক্ষের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দলীয় কনফারেন্সে শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে। যে খুনি সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার-পরিজনকে ও জাতীয় নেতাদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল ও লাখ লাখ রাজনৈতিক কর্মীকে এই দীর্ঘ সময় নির্যাতন, হত্যা ও দেশছাড়া করেছিল তারা তখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল। প্রিয় স্বামী ড. ওয়াজেদ একমাত্র জীবিত বোন শেখ রেহানা এবং দুই সন্তান জয় ও পুতুলকে ভাগ্যের কাছে ছেড়ে দিয়ে বাংলার মানুষের ভাগ্যকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথে নিয়ে যাওয়ার উদগ্র কামনা নিয়ে শেখ হাসিনা সেদিন দেশে ফিরে এসেছিলেন।

এই ক্ষমতালোভী খুনি শাসকদের লক্ষ্যবস্তু তখন শেখ হাসিনা। তা সত্ত্বেও নিকটাত্মীয় পরিজনের মায়া ত্যাগ করে নিজের জীবনকে বিপন্ন করে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন। তারপর একদিকে দলীয় ষড়যন্ত্রকারীদের তাকে ব্যর্থ করার সকল প্রচেষ্টা বিফল করে দিয়ে ২১ বার জীবননাশের আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে আজো শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণের যে প্রচেষ্টায় নিয়োজিত আছেন তার সুফল সম্পর্কে এ আলোচনার প্রারম্ভে কিছুটা আলোকপাত করেছি। একটি মৌলিক চিন্তা- জীবে দয়া করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর- এই মন্ত্র ও পিতার আদর্শ ধারণ করে একটি সুখী, সমৃদ্ধিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা অন্তরে ধারণ করে এই দীর্ঘ পথযাত্রায় তিনি প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তার স্বচ্ছ, সাহসী ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আজ বাংলার জনগণকে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে এসেছে। এরপরও দেশের মানুষের কল্যাণের অনন্ত বাসনার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব মানবতার কল্যাণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে অহর্নিশ তিনি পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার ওপর নির্ভর করে স্বচ্ছ ও সুপরিপকস্ফ চিন্তা-চেতনা নিয়ে দেশ সেবা ও সমস্ত প্রাণীকুলের কল্যাণে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। আগামীদিনের বিশ্ব শান্তি এবং একটি সুখী সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ার সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি যে উদাহরণ রেখে যাবেন, তা অনন্তকাল ধরে মানব সমাজের জন্য লক্ষণীয় পাথেয় হয়ে থাকবে। আজ তার এই শুভ জন্মদিনে বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ ও শান্তির প্রচেষ্টায় নিয়োজিত এই প্রিয় মানুষের দীর্ঘায়ু কামনা করি।