চার-ছক্কার ধুন্ধুমার এই ফরম্যাট নিয়ে বাংলাদেশ দলের আক্ষেপ অনেক পুরোনো। একজন পাওয়ার হিটার নেই, নেই কোনো এক্সপ্রেস গতির পেসার, এমনকি একজন লেগস্পিনারও নেই। তাই তো টি২০-তে খুব একটা সুখস্মৃতিও নেই। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি সিরিজে টাইগারদের পারফরম্যান্স আশার পালে হাওয়া দিচ্ছে। জিম্বাবুয়েতে গিয়ে অনভ্যস্ত কন্ডিশনে সিরিজ জিতে আসার পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডকে হারানো নতুন সম্ভাবনা জাগাচ্ছে।

টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ইতিহাস খুব একটা স্বস্তির নয়, ২৫ ম্যাচ খেলে জয় মাত্র পাঁচটি। ২০০৭ বিশ্বকাপে উইন্ডিজের বিপক্ষে স্মরণীয় জয়ের পর কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে বড় কোনো দলকে হারাতে পারেনি তারা। হংকংয়ের মতো দলের কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবার দেশ ছাড়ার আগে অসংখ্য সাক্ষাৎকারে ভালো কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে বাংলাদেশের ভালো করতে হলে দল হিসেবে খেলতে হবে। পুরো দলের পারফরম্যান্স এক সুতোয় গাঁথতে পারলেই কেবল বিশ্বমঞ্চে ভালো কিছু সম্ভব। রাসেল, গেইল বা পান্ডিয়ার মতো কেউ বাংলাদেশ দলে নেই যে, মুহূর্তের মধ্যে চার-ছয় মেরে ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেবেন। তাই দল হিসেবে খেলাটাই একমাত্র ভরসা। আর এই দল হয়ে ওঠার পেছনে বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাটিং। সম্প্রতি সফলতা এলেও ব্যাটিং মোটেই ক্লিক করেনি। যদিও সাকিবসহ অনেকেই বলেছেন, মিরপুরের উইকেটে ব্যাটিং পারফরম্যান্সকে হিসাবে না ধরতে। তার পরও বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে সমস্যাটা পুরোনো। লিটন মাঝেমধ্যে ঝলক দেখালেও ধারাবাহিকতা নেই। নাঈম শেখের মধ্যে ধরে খেলার প্রবণতা দেখা যায়। আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারও ছন্দে নেই। তারা ছন্দে না থাকলে পাওয়ার প্লে কাজে লাগানো যাবে না। আর টি২০-তে বড় স্কোর করতে হলে পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতেই হবে। এজন্য দুই ওপেনারের পাশাপাশি তিনে ব্যাট করতে নামা সাকিব আল হাসানকে জ্বলে উঠতে হবে।

মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ পরীক্ষিত। এখানে খানিকটা আস্থা আছে। দলের প্রয়োজনে বহুবার জ্বলে উঠেছেন তারা। যদিও মুশফিক কিছুদিন ধরে খেলার বাইরে ছিলেন। তবে দেশ ছাড়ার আগে 'এ' দলের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি রান পেয়েছেন। এই পোড় খাওয়া ক্রিকেটারের সঙ্গে আছেন তিন তরুণ আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী। এই তিনজনই দ্রুত রান তোলা ও ফিনিশিংয়ে বেশ দক্ষ। বড় স্কোর করতে হলে দারুণ শুরুর পাশাপাশি ফিনিশিংটাও দুর্দান্ত হতে হবে।

সে তুলনায় বাংলাদেশের বোলিংটা বেশ আস্থার জায়গা। এর সবচেয়ে বড় কারণ মুস্তাফিজ ও সাকিব। মুস্তাফিজের কথা আলাদা করে বলতেই হবে। বল হাতে তিনি কী করতে পারেন, সেটা এরই মধ্যে প্রমাণিত। বাঁহাতি এ পেসার এখন ছন্দেও আছেন। জাতীয় দলের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করছেন। আইপিএলেও বেশ ভালো বোলিং করেছেন কাটার মাস্টার। দারুণ ফর্মে আছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদও। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চমৎকার বোলিং করেছেন তিনি। কিউইদের বিপক্ষে হয়েছেন সিরিজসেরা। পেসার তাসকিন আহমেদও এখন অনেক পরিণত। গতি বেড়েছে, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণও এখন তার বেশ ভালো। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে আসা তরুণ পেসার শরিফুল ইসলাম যদি এই মঞ্চেও প্রতিভার ঝলক অব্যাহত রাখতে পারেন তাহলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে। সে সঙ্গে আছেন শেখ মেহেদী, যিনি কিনা কার্যকরী অফস্পিনের পাশাপাশি মারকুটে ব্যাটিংও করতে পারেন, সব কথার শেষ কথা, সবার পারফরম্যান্সকে এক সুতোয় গাঁথা, যেটা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।