সাত মাস বিরতির পর কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে সপ্তম দফায় (প্রথম দল) ভাসানচরে পৌঁছেছে রোহিঙ্গারা। 

বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর জাহাজ 'বানৌজা পেঙ্গুইন' যোগে তারা ভাসানচর নেভি পল্টুনে পৌঁছায়। পল্টুন এলাকায় নৌবাহিনী, আরআরআরসি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন এনজিওর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

আগত রোহিঙ্গাদের জাহাজ থেকে নামানোর পর পল্টুন সংলগ্ন হ্যালিপ্যাডে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে গাড়িযোগে ১নং ওয়্যার হাউজে  এবং ওয়ার হাউজ থেকে ৫৬ নং ক্লাস্টারে নিয়ে যাওয়া হবে তাদের।

এর আগে বুধবার সকাল ১১টার পর উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে চট্টগ্রামের পথে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ৭টি বাস রওনা দেয়। 

 জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও সরকারের মধ্যে ভাসানচরে শরণার্থী ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সেখানে রোহিঙ্গাদের নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ দফায় প্রায় দেড় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাওয়ার কথা রয়েছে। 

জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যাওয়ার উদ্দেশে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার মাধ্যমে রোহিঙ্গারা সপরিবারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে থাকেন। তারা বুধবার সকালে বাসে করে ভাসানচর যেতে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। রাতে তারা চট্টগ্রামের বিএন শাহীন কলেজের ট্রানিজট ক্যাম্পে পৌঁছান। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ভাসানচরে যান তারা।

অতিরিক্ত ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসু দ্দৌজা নয়ন জানান, সপ্তম দফায় কতজন যাচ্ছে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না।

এদিকে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ছয় দফায় ১৮ হাজার ৯৫ জন রোহিঙ্গাকে সরকার ভাসানচরে পাঠায়। এ ছাড়া গত বছর মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সেনাদের অভিযান থেকে প্রাণে বাঁচতে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। এদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানের সময়ে পালিয়ে এসেছিলেন। শরণার্থীদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত ১ লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।