চট্টগ্রামে সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা তত্ত্বাবধায়ককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের চান্দগাঁও থানার নূরনগর হাউজিং সোসাইটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হলেন ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাসান লিটন। তিনি ওয়ার্ড বিএনপি ও নূরনগর হাউজিং সোসাইটি প্লট কল্যাণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। অন্য আসামিরা হলেন- মিজানুর রহমান, আব্দুর রহমান, বাদশা ও মো. মোরশেদ। তাদের মধ্যে মিজান ও মোরশেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মারধরের শিকার সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা তত্ত্বাবধায়ক সবুক্তগীন মাহমুদ তায়েছ সমকালকে জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বির্জা খাল থেকে মাটি তুলে তা ফেলার জন্য নূরনগর হাউজিং এলাকায় যান তারা। এ সময় হাউজিং সোসাইটির লোকজন মাটি ফেলতে তাদের বাধা দেয়। সেখানে ফেলতে না পেরে তারা এক কিলোমিটার এলাকায় চলে আসেন। পরে উপ-প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তার নির্দেশে সেখানে সড়কের পাশে মাটিগুলো রাখেন তারা। এ সময় হাসান লিটনের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ট্রাকের চালকের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। তাকে (তায়েছ) মারধর করে এক পর্যায়ে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে হাসান লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

উপ-প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম সমকালকে বলেন, বিভিন্ন খাল থেকে উত্তোলন করা মাটি দীর্ঘদিন ধরে নূরনগর হাউজিংয়ে ফেলে আসছে সিটি করপোরেশন। কখনও তারা বাধা দেননি। মঙ্গলবার দুপুরে বাধা দেওয়ার কথা শুনে মাটি না ফেলে চলে আসতে বলেছি। মাটি থেকে পানি ঝরে যাওয়ার জন্য আপাতত সিটি করপোরেশনের সড়কের এক পাশে রাখতে বলেছি। পরে তা সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে নিয়ে যাওয়া হবে। এর মধ্যে হামলা চালানো হয়েছে। বিষয়টি মেয়রকে জানালে তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছেন।

চান্দগাঁও থানার ওসি মঈনুর রহমান সমকালকে বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা তত্ত্বাবধায়ককে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।