শ্রীলঙ্কার পর এবার বাংলাদেশের কাছে ২০ কোটি ডলার ঋণ চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে মালদ্বীপ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্প্রতি আবেদন এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকটে পড়া মালদ্বীপ বাজেট সহায়তা হিসেবে এ ঋণ চেয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালদ্বীপ সফরের আগে সে দেশের এক প্রতিনিধি দল ঢাকায় এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে। তবে মালদ্বীপকে ঋণ দেওয়া হবে কিনা- তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

মালদ্বীপের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস পর্যটন খাত। করোনার বিধিনিষেধের কারণে গত দু'বছর পর্যটক ব্যাপকভাবে কমেছে। ফলে দেশটি বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকটে পড়েছে। মালদ্বীপের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন এক বিলিয়ন ডলারেরও কম।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের আমদানিতে বাড়তি চাহিদা ও রেমিট্যান্স কমায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতির দিকে রয়েছে। গতকাল রিজার্ভ ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। অথচ গত ২৪ আগস্ট প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। মূলত আমদানি দায় মেটাতে গিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে আগস্ট থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ২৯০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আবার আগামী মার্চে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) বড় অঙ্কের দায় পরিশোধ করতে হতে পারে। তখন রিজার্ভ আরও কমতে পারে। এসব কারণে রিজার্ভ থেকে এখন আবার ঋণ দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে বাংলাদেশ।

গত বছর প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ পদ্ধতিতে অর্থ দেওয়া হয়। এর ফলে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ নিজস্ব মুদ্রা রেখেছে। পাশাপাশি দেশটির সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথাসময়ে অর্থ ফেরত বিষয়ে গ্যারান্টি দিয়েছে। তিন মাস মেয়াদে অর্থ ছাড় হলেও এক বছর মেয়াদি চুক্তি রয়েছে। ফলে তিন মাস পরপর এক বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়াতে পারবে তারা। এর বিপরীতে লাইবরের সঙ্গে দেড় শতাংশ সুদ পাবে বাংলাদেশ। গত মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দেওয়ার নীতিগত অনুমোদন হয়।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বিদেশি কোনো রাষ্ট্রকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও এর সিদ্ধান্ত আসে মূলত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। ডিসেম্বরে মালদ্বীপ সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গত মার্চে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মেদ সলিহ ঢাকা সফর করেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সাইডলাইনে দুই নেতার বৈঠক হয়।