বাড়ি কিংবা লোকালয় থেকে দূরে প্রাকৃতিক পরিবেশে একসঙ্গে গল্প, আড্ডা আর খাওয়া-দাওয়ার এমন আয়োজন কারও কারও কাছে চড়ূইভাতি আবার কারও কাছে বনভোজন নামে পরিচিত। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে এ আয়োজন 'কাফফারা' নামে পরিচিত। 'নুরু, পুশি, আয়েশা, শফি সবাই এসেছে/আম বাগিচার তলায় যেন তারা হেসেছে'- কবি গোলাম মোস্তফার বনভোজন কবিতার এই লাইনের মতো অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, শিক্ষিকা সবাই যেন কাফফারায় এসে তারার হাসি হেসেছিল। বছর ঘুরে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে নবীন শিক্ষার্থী। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে প্রায় দুই বছর পর এবার এসেছে নবীন শিক্ষার্থী। আর নবীনদের আগমনে সবচেয়ে জুনিয়র যে ব্যাচ তারাও এক ব্যাচের সিনিয়র শিক্ষার্থী হয়ে যায়।

জুনিয়র থেকে সিনিয়র হওয়া উপলক্ষে প্রতি বছর এমন আয়োজন করে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এবারের আয়োজন ছিল অর্থনীতি বিভাগের ৩০তম ব্যাচের। তাদের আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছিল বিভাগের সব সদস্য। এবারের কাফফারার আয়োজন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের টিলার পাদদেশে। কর্কশিট আর রঙিন কাগজ কেটে তৈরি করেছিল গেট। সবুজ ঘাস ছিল বসার জায়গা। সেখানে বসে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে গল্প, আড্ডা আর আনন্দে মেতে ওঠে। কেউ কেউ অনেকদিন পর দেখা হওয়ায় ছবিও তুলে রাখে। এদিকে খাওয়া-দাওয়া আর কুশল বিনিময় শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, 'আমি ভয়ে ভয়ে থেকেছি যে কাউকে হারানোর খবর যেন আমি না শুনি। প্রায়ই অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, কথা বলে যখন জানি তোমরা ভালো আছ, তখন আমার ভালো লাগে। আমি সবচেয়ে আনন্দিত কাউকে না হারিয়ে এখানে সবাই একসঙ্গে আসতে পেরেছি।' কাফফারা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জহির উদ্দীন আহমদ নতুন শিক্ষার্থী এবং বিভাগের শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, 'বিভাগে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক সিনিয়র-জুনিয়র নয়; আমাদের সম্পর্কগুলো হোক ছোট ভাই-বড় ভাই এবং ছোট বোন-বড় বোনের মতো। আমরা প্রায় দুই বছর পর এমন একটা মিলনমেলায় সবাই এক হয়েছি। এমন আয়োজনে আমাদের দেখা হোক বারবার।'