ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, জনগনের সরকার হলে দাম বাড়ানোর আগে তারা সাধারণ মানুষের মতামত নিতো। সেটা না করে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার প্রথম দিনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে অস্বাভাবিক ভাবে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এতে প্রমাণ হয়, এই সরকার জনগনের সরকার নয়। এই সরকার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সরকার।

শনিবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে সিপিবি'র বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এসব কথা বলেন। ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি ও দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিপিবি ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল, বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এই সরকার ওই পথ থেকে সরে এসে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করছে। এই লুটেরারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে। ওই লুটের টাকা তোলার জন্য জনগনের পকেট কাটা হচ্ছে। এই গণববিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জনগনকে রাজপথে নেমে আসতে হবে।

সমাবেশে সিপিবি'র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাণিজ্যমন্ত্রীকে পদচ্যুত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অযোগ্য মন্ত্রী আমলা আর কমিশন ভোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থাও নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ যখন দিশেহারা, তখন সরকারের মন্ত্রী বলছেন, 'মূল্যবৃদ্ধির প্রশ্নে সরকারের কিছুই করার নেই।' আমরাও সমাবেশ থেকে বলি, 'এই সরকারেরও আর দরকার নেই। সাধারণ মানুষের পকেট কাটার সরকার আর নয়।' দাম কমানোর উদ্যোগ না নিলে বামপন্থী অন্যান্য দলকে সঙ্গে নিয়ে হরতাল অবরোধের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সিপিবি'র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক এএন রাশেদার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবি'র সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা ও লাকী আক্তার। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।