প্রবাসী লেখিকা ও শিক্ষাবিদ এলোরা হালিম চৌধুরীর নতুন বই ‘এথিক্যাল এনকাউন্টারস’ বা নৈতিক সম্মুখীন প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। তার প্রকাশিত এই বই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

স্থানীয় সময় রোববার (১৫ মে) বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজের দারুল কাবাব রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় বই থেকে লেখিকা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে সমসাময়িক বিষয়, নারী-কেন্দ্রিক মুক্তিযুদ্ধ সিনেমা-বৈশিষ্ট্য এবং তথ্যচিত্র প্রবাসী গুণীজন, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরেন।

বোস্টনের বিশিষ্ট রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মনির সাজীর ব্যবস্থাপনায় এবং ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসে (লোয়েল) এর অধ্যাপক খন্দকার করিমের সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় বোস্টনের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত হয়ে 'এথিক্যাল এনকাউন্টারস’ বা নৈতিক সম্মুখীন বইয়ের নানা তথ্যকথা শোনেন।

এলোরা হালিম চৌধুরী বলেন, 'এথিক্যাল এনকাউন্টারস' হল নারীবাদ, মানবাধিকার এবং স্মৃতির সংযোগস্থলের একটি অন্বেষণ, যাতে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে হিংসাত্মক উত্তরাধিকারকে স্মরণ করার ভিজ্যুয়াল অনুশীলনগুলি মানবতার অগ্রগতির জন্য বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্রের কল্পনাকে জাগ্রত করতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ‘ টেম্পল ইউনিভার্সিটি প্রেস'  প্রকাশনী থেকে চলতি বছর এ বইটি বের হয়েছে। বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল ট্রান্সন্যাশনাল ফেমিনিজম, হিউম্যান রাইটস এবং বাংলাদেশের যুদ্ধ সিনেমা।

তিনি জানান, তার লেখায় তিনি দেখিয়েছেন যে কীভাবে বাংলাদেশের যুদ্ধ চলচ্চিত্রগুলি ট্রমা, স্বাধীনতা এবং এজেন্সির জেন্ডারযুক্ত জাতীয়তাবাদী ল্যান্ডস্কেপকে কল্পনা করে, ব্যাহত করে এবং পুনরুদ্ধার করে। তিনি রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত 'মেহেরজান' এবং শামীম আখতার পরিচালিত 'ইতিহাস কন্যা' (ডটার অব হিস্টোরি)সহ বাংলাদেশি নারীবাদী চলচ্চিত্রগুলি বিশ্লেষণ করেছেন। সেইসাথে জন্ম সাথী (বর্ন টুগেদার), এবং স্বাধীনতা (এ সারটেইন লিবারেশন)সহ অ্যাক্টিভিস্ট-চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সামাজিকভাবে জড়িত চলচ্চিত্রগুলিকে বিশ্লেষণ করেছেন, তা দেখানোর জন্য কিভাবে যুদ্ধের চলচ্চিত্রগুলি বাংলাদেশ লিঙ্গ ন্যায়বিচারের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

ইলোরা হালিম চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টনের উইমেনস, জেন্ডার অ্যান্ড সেক্সুয়ালিটি স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ট্রান্সন্যাশনালিজম রিভার্সড: ওমেন অর্গানাইজিং এগেইনস্ট জেন্ডারের ভায়োলেন্স ইন বাংলাদেশ এর লেখিকা, যেটি ন্যাশনাল উইমেনস স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশনের গ্লোরিয়া এ. অন্জলদুয়া বুক পুরস্কার জিতেছেন। তিনি সাউথ এশিয়ান ফিল্মস্কেপসের (ট্রান্সরিজিওনাল এনকাউন্টার্স) সহ-সম্পাদক।