সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জে কম হলেও ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে ১২০ জনের তালিকা তৈরি করে ত্রাণের প্যাকেট বিতরণের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। 

কিন্তু ত্রাণপ্রত্যাশী প্রায় তিনশ লোক জমায়েত হয় অনুষ্ঠানস্থলে। শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদের থানা বাজার পয়েন্টে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনও করেন স্থানীয় এমপি, প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। 

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পানিবন্দি মানুষ

কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ত্রাণ প্রত্যাশী ও প্রশাসনের লোকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির কারণে ত্রাণ বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ত্রাণ প্রত্যাশীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে ৪-৫ জন আহত হন। 

এমনকি ঘটনার পর পূর্ব ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম তার ইউনিয়নের বরাদ্দের ২০ প্যাকেট ত্রাণ নিয়ে পাওয়ার পথে গাড়ি আটকিয়ে ওই ত্রাণ জোর করে নেওয়ার চেষ্ঠা করেন লোকজন। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে তিনি স্থান ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজং গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২০০ জনের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রীকে দিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। কিছু প্যাকেট বিতরণ করে তিনি চলে যাওয়ার পর তালিকার বাইরের লোকজন হট্টগোল শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি চেয়ারম্যান সমকালকে জানিয়েছেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে ২০টি করে ৬টি ইউনিয়নের জন্য ১২০ প্যাকেট শুকনো খাবারের প্যাকেট করা হয়। কিন্তু মন্ত্রী ত্রাণ বিতরণ করবেন শুনে কয়েকশ মানুষ ত্রাণ নিতে হাজির হয়। তারা ত্রাণ না পেয়ে হট্রগোল করে। ফলে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। 

তিনি বলেন, যেখানে হাজার হাজার মানুষের ত্রাণ প্রয়োজন, সেখানে ১২০ প্যাকেটে কি হবে?