সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পদ্মাসেতু থেকে পানিতে ফেলে দেওয়ার কথা বলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এমন বক্তব্য হত্যার হুমকি।

তিনি বলেন, দুষ্টুমি করেই হোক বা এমনি হোক। একজনকে টুস করে ফেলে দেয়া আরেকজনকে চুবানো এইটা তো হত্যার হুমকি। এটেম্পট টু মার্ডার। বিএনপির এত আইনজীবী ফোরাম আছে, অথচ এর বিরুদ্ধে কোনো মামলা করে নাই। আদালতে গেলেও এই মামলা নেবে না। অথচ বিএনপির কেউ কোনো কথা বললে দেশের আনাচে-কানাচে খালি মামলাই হয়।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসালাম চৌধুরী মুক্তি পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গয়েশ্বর বলেন, যে দেশের আদালত সরকারের অপকর্মকে লালন পালন করে, সাফাই গায়, যে দেশে সরকারে দুর্নীতি, মুদ্রাপাচার, নারী নির্যাতন থেকে আরাম করে খুন গুম করে, আবার টকশোতে লোক ভাড়া করে সাফাই গায়, সেই দেশে আমরা কোন অবস্থায় আছি সেটা বুঝতে হবে। এখন যদি আমরা হাশরের ময়দান পর্যন্ত অপেক্ষা করি তাহলে চলবে না। পৃথিবীতে আপনার দায়িত্ব আপনাকেই পালন করতে হবে। 

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপি রাজপথে আন্দোলনের সক্ষমতা দেখিয়েছে। তারপর আর চেষ্টা হয় নাই। আমরা নেত্রীকে সম্মান করি,শ্রদ্ধা করি। তার জন্য আমাদের আবেগ অনুভূতির কোনো অভাব নাই। অথচ খালেদা জিয়া হাঁটতে হাঁটতে জেলে গেলেন, আর বন্দি অবস্থায় জেল থেকে গেলেন বাসায়। আমরা কি করলাম? আমরা বক্তৃতা আর মুক্তি দাবি করছি কিন্তু কার কাছে করছি? শেখ হাসিনার কাছে?

তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিনই ঐক্যের কথা বলছি। একটা মানুষ পাইলাম না যে বলছে ঐক্য ছাড়া চলবে। তাহলে আমাদের আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে সমস্যাটা কি? একজনকে দাওয়াত দিলে আরেজন আসবেন না, তাহলে ঐক্য হলো কই?

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট সহ আয়োজক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।