অগ্নি দুর্ঘটনায় যেভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে তা বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ম্ফোরণে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪৯। সমগ্র জাতি আজ শোকাহত। এর আগে গত বছরের ৮ জুলাই রূপগঞ্জ এলাকায় হাশেম গ্রুপের জুস তৈরির এক কারখানায় ভয়াবহ আগুন দুর্ঘটনায় ৫২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন তাঁরাই বুঝতে পারেন- কী কষ্ট বহন করতে হচ্ছে! সীতাকুণ্ডে নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারের আয়ের মূল ব্যক্তি ছিলেন। ওইসব পরিবার কীভাবে চলবে?

কারখানার কাঠামো ঠিক আছে কিনা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ আছে কিনা, অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মিদল আছে কিনা- এ নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন। বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ ফায়ার সার্ভিসের কমী। আমরা তাদের অগ্নিযোদ্ধা বলছি। অগ্নিযোদ্ধারা সীতাকুণ্ডের বিস্ম্ফারণে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারপরও ফায়ার সার্ভিসের অধুনিকায়ন দরকার। আমাদের দেশের শত শত কর্মকর্তা বিভিন্ন কাজের নামে বিদেশে প্রশিক্ষণ নিতে যান। যেমন- পুকুর ও খাল উন্নয়ন শিখতে বিদেশ সফর, প্রকল্পে ঘাস চাষ এবং লিফট বা এসির প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনের জন্য বিদেশভ্রমণ। খুবই হাস্যকর। এসব ট্রেনিং মানে জনগণের টাকার অপচয়। এভাবে কত কর্মকর্তা বিদেশে ট্রেনিংয়ের নামে প্রমদভ্রমণ করছেন যা হিসাবে অনেক। খোদ সরকারপ্রধান এই বিদেশ সফরে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। অবশেষে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদেশ সফরে যেতে পারবেন না- এই মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এ ছাড়া বিভিন্ন ফেলোশিপের নামে অনেক কর্মকর্তা বিদেশে যান পিএইচডি করতে। কিন্তু যাঁদের দরকার নেই তাঁদের ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে বলে সমালোচনা রয়েছে। এতে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা সরকারের ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পেশায় রয়েছেন তাঁদের ফেলোশিপে কম প্রাধান্য দেওয়া হয়। 'প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ' যাতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এজন্য যাঁদের দরকার তাঁদের যেন এই ফেলোশিপ দেওয়া হয়। ফেলোশিপের বিষয়ে সরকারের নতুন করে পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। কর্মকর্তাদের বিদেশে ট্রেনিং, এর সুফল রাষ্ট্র কতটুকু পায়- এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ, বিদেশে সরকারি কাজে সফর করার পরদিন কোনো কোনো কর্মকর্তা অবসরে যান। তাহলে এই সরকারি সফরের অর্থনৈতিক ভ্যালু কী?

তাই এখন সময়ের দাবি- ফায়ার ফাইটারদের জন্য উন্নত এবং মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। কারণ, এখানে অর্থনৈতিক ভ্যালু পাওয়া যাবে বলে মনে হয়। যাতে তাঁরা উন্নত দেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন। প্রতি বছর অগ্নিকাণ্ডে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। অর্থাৎ ফায়ার ফাইটারদের যদি ইমার্জেন্সি হ্যান্ডেল করার জন্য উন্নত ট্রেনিং থাকত, তাহলে আগুন দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমে যেত। তাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন। উন্নত মেশিনারি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন বা কেমিক্যাল বিস্ম্ফোরণে আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে দ্রুত কাজ করার জন্য উন্নত ট্রেনিং অতীব জরুরি।