চিকিৎসা সেবাসহ বেশ কয়েকটি কারণে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র চারবার পেয়েছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাতীয় পদক। হাসপাতালটিতে নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা নেই। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।

২০০৯ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা করা হয়। সে সময় রোগীর খাবার ও ওষুধের অনুমোদন দেওয়া হলেও চিকিৎসক পদগুলো ফাঁকা ছিল। ২০২১ সালে চিকিৎসকের অনুমোদন হয়। সম্প্রতি কয়েকজন চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন হাসপাতালে। উপজেলার ৩ লাখ ২৮ হাজার মানুষের একমাত্র আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এটি।

এখানে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। এ থেকে আয়ও করছে হাসপাতালটি। মে মাসে বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে ২ লাখ টাকার ওপরে আয় হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারী ও শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। রোগী ভর্তি আছেন শতাধিক। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে সীমিত জনবল ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে। বহির্বিভাগে গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জন মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রতিদিন।

বেলা সাড়ে ১১টার পর দেখা যায়, বহির্বিভাগে নারীর লম্বা লাইন। প্রায় অর্ধশত নারী টিকিট হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আসমা নামের এক নারী বলেন, হাসপাতালে আসার পর টিকিট কেটে লাইনে আছেন। গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনেকে উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীরা যাঁদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ছে তাঁদের জেলা অথবা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। অতি সাধারণ অস্ত্রোপচার করতেও ছুটতে হচ্ছে অন্যত্র।

অন্তঃসত্ত্বা রোগীর অনেকেই হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির জন্য ভর্তি হচ্ছেন। অনেক সময় নানা জটিলতার কারণে স্বাভাবিক প্রসব না হলে সে ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। গত মাসে পাঁচ প্রসূতির চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সিজারিয়ান ছাড়া অন্য কোনো রোগের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।

চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, গাইনি ও এনেশথেসিয়া কনসালট্যান্ট ১১ পদের সব ফাঁকা। সর্বশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও সিভিল সার্জনকে চিকিৎসক চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আকুল উদ্দিন বলেন, রোগীরা অস্ত্রোপচার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বারবার পত্র দিয়েও সাড়া মিলছে না।