উজানের ঢলে হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি। ইতিমধ্যে তিস্তার শাখা, প্রশাখা, খাল, ডোবা, নালাসমূহ পানিতে কানায় কানায় ভরে গেছে। বিছিন্ন হয়ে গেছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখন চরাঞ্চলবাসির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌকা, কলাগাছের ভেলা এবং বাঁশের সাঁকো। তবে চরে তিস্তার ছোট ছোট শাখা, প্রশাখা ও নালা নদীতে বাঁশের টার ও সাঁকো দিয়ে পারাপার করছে চরবাসি। যেখানে নৌকা চলাচলের কোনো উপায় নেই, সেখানে বাঁশের সাঁকো ও টারই একমাত্র ভরসা।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর হরিপুর গ্রামের তিস্তার শাখা নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা হচ্ছে বাঁশের সাঁকো। ওই সাঁকোর উপর দিয়ে ৪ গ্রামের লোকজন চলাচল করে। যে হারে পানির স্রোত অব্যাহত রয়েছে, তাতে করে যেকোনো মুহূর্তে সাঁকোটির খুঁটি উপড়ে ভেসে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর তা ভেসে গেলে ওই ইউনিয়নের চর হরিপুর, ডাঙ্গার চর, ক্লিনিকে চর, চরমাদারি পাড়া গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে।

চর হরিপুর গ্রামের জরিফ মিয়া জানান, চরের প্রতিটি বাড়িতে পানি উঠেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। চর হরিপুর গ্রামের তিস্তার শাখা নদীর উপর স্থানীদের স্বেচ্ছাশ্রমে এবং অর্থায়নে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে ওই এলাকার লোকজন কারেন্ট বাজার, চিলমারী, পাঁচপীর বাজারের যাওয়া আসা করছে। এটি ভেসে গেলে চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য বাঁশের সাঁকোটি মজমুত করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসি। 

হরিপুর ইউনয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সরকারের উন্নয়ন বঞ্চিত চরবাসি। বর্তমানে চরবাসি অসহনীয় কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিনাতিপাত করছে। বিশেষ করে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যাওয়ায় চরবাসি নিদারুণ কষ্টে রয়েছে। প্রতিবছর জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসির সহায়তায় তিস্তার ছোট ছোট শাখা ও প্রশাখা নদীর উপর বাঁশের টার, সাঁকো নির্মাণ করা হয়। তীব্র স্রোতে ইতিমধ্যে অনেক সাঁকে এবং বাঁশের টার ভেসে গেছে। চরবাসির যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনের পক্ষ হতে নৌকা সার্ভিসের ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন।  

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিফ মন্ডল জানান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে চরাঞ্চলের লোকজনের চলাচলের জন্য কয়েকটি নৌকা দেওয়া হয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে সাঁকো ও বাশেঁর টার এই মুহূর্তে  দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।   

 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মারুফ জানান, বানভাসিদের সহায়তায় সকল রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।