হঠাৎ যদি জীবনে বাধা আসে, সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই কঠিন সংগ্রাম করেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। আমি সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে যে জিনিসটির ওপর বেশি আকৃষ্ট হয়েছি, সেটা হলো পাহাড়। নিচ থেকে পাহাড়কে দেখে মুগ্ধ হচ্ছি কী চমৎকার অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ের চূড়ায় উঠে হঠাৎ মহাশূন্য যা শুধু হাহাকার খোলা আকাশ। কিন্তু নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি কী চমৎকার মনোরম দৃশ্য! তখন ভাবনায় ঢুকেছে আসলে জীবন বলতে শুধু প্রভাবশালী বা ধনসম্পদ নয়, জীবন একটি চলমান সময় এবং এই সময়টিকে উপভোগ করার মন মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। একজন ভালো বাবা হতে পারা বা একজন ভালো মা হতে পারার মাঝে যে তৃপ্তি রয়েছে, সেটা হয়তো নেই একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মস্তবড় কর্মকর্তার। বড় কিছু হতে পারার চেয়ে ছোট কিছু হয়ে বড় কিছু করতে পারার মধ্যে যে শান্তি, সেটা সেই ব্যক্তি জানে, যে কিছু করেছে।

মনে পড়ে সেই বহু বছর আগে ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিতে তখন যে প্রডাক্টের দায়িত্বে কাজ করি, সেই প্রডাক্টটিই কাজে লেগেছিল আজকের বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসির। তাঁর শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্রোথ হরমোনের অভাব ছিল তখন। যার ফলে তাঁর শারীরিক গ্রোথে বাধার সৃষ্টি হয়। আমাদের কোম্পানির সেই ইনজেকশন তাঁকে সে সমস্যা থেকে উত্তরণে সাহায্য করে। সে বহু বছর আগের কথা। ১১-১৩ বছর বয়সের সেদিনের সেই মেসির চোখ-মুখ দেখে মনে হয়েছিল, তাঁর মধ্যে যে স্বপ্ন রয়েছে যদি সে এর প্রতিফলন ঘটাতে পারে; তবে হয়তো একদিন আমার ভালো লাগবে। আজ মেসি বিশ্বসেরা ফুটবলার ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। কর্মের ফল এভাবেই আমাদের জীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। শুধু নিজে কী পেলাম সেটা নয়; বরং অন্যকে কী দিতে পারলাম এর মধ্যেও রয়েছে আত্মতৃপ্তি।

বর্তমান বিশ্বে যে সমস্যাগুলো মানুষের সৃষ্টি, তার সমাধান সমস্যার মধ্য দিয়ে হলেও এর ধারাবাহিকতা নতুন সমস্যার বীজ বপন করে চলেছে। যুদ্ধের অবসান এক প্রান্তে হলেও শুরু হচ্ছে অন্য প্রান্তে। বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো তাদের অতীতের অস্ত্রপাতি বর্তমান যুদ্ধে ব্যবহার করছে নতুন অস্ত্রপাতি তৈরি করার জন্য। একটি দেশকে ধ্বংস করা হচ্ছে আবার নতুন করে গড়বে বলে। পুঁজিবাদীরা এভাবেই বিনিয়োগ করে থাকে। একদিকে মানুষের জীবন বাঁচাতে বিনিয়োগ চলছে; অন্যদিকে মানুষকে ধ্বংস করার জন্যও পুঁজিবাদীর পুঁজিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

হাতের পাঁচটি আঙুল সমান না, তা আমরা জানি। তার পরও সব আঙুলেরই গুরুত্ব রয়েছে। ঠিক সমাজে সবারই কর্মের গুরুত্ব রয়েছে; সেটা ভুলে গেলে চলবে না। আমরা সেটা যাতে না ভুলি তার জন্যই আমাদের কাজ করতে হবে, বিবেককে সচেতন করতে হবে। তবেই সম্ভব হবে সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা। আমার ছেলে টেনিস খেলছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, আমি মূলত তার সঙ্গে আছি। খেলার ফাঁকে সময় পেলে ঘুরছি, দেখছি পৃথিবীর রূপ, শেয়ার করছি। খেলাধুলার জগৎ বড় কঠিন একটি জায়গা। তার পরও এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেকে, এর মধ্যে আমার ছেলেও। প্রতিযোগিতার মধ্যে জয়ী হওয়ার যে আনন্দ শুধু সেই জানে যে জয়ী হয়। আমি বাংলাদেশের কাছে এতটুকু আশা করব, যেন জনগণের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেয় তাদের কাছে। জনগণ যেন তাদের মতো করে তাদের পছন্দের মানুষটিকে ভোট দিতে পারে। কারণ মনের মতো লোকটিকে জয়ী করাতে পারলে সে মানুষটি সত্যিই অন্যকে নিয়ে ভাববে, সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াবে- এ বিশ্বাস আমি করি। পাহাড়-পর্বত ভেঙে যদি এরা পারে সুন্দর দেশ গড়তে, আমরা কেন পারব না?

বিষয় : সুন্দর দেশ ন্যায্য অধিকার

মন্তব্য করুন