লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার ৪৫ দিন পর কর্মস্থলে ফিরেছেন নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কলেজে যোগদান করেন তিনি। এসময় তাকে কলেজ গেটে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। এদিন দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কলেজে অবস্থান করেন তিনি।

অধ্যক্ষকে বরণ করে নিতে সকাল থেকেই কলেজে অপেক্ষা করছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। স্থানীয় সংসদ সদস্য বি এম কবিরুল হকের গাড়িতে বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটে কলেজে আসেন অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস। এ সময়ে তার সঙ্গে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোসসহ রাজনৈতিক দলের নেতারা।

কলেজের প্রধান ফটকে তাঁকে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান কলেজের শিক্ষকরা। এরপর ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে বরণ করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অচিন কুমার চক্রবর্তী। এরপর শিক্ষার্থীরা ফুলের মালা পরিয়ে পায়ে হাত দিয়ে তাকে প্রণাম জানায়।

ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত হওয়ার পর স্বপন কুমারকে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসিয়ে দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্য বি এম কবিরুল হক, কলেজের পরিচালনা পরিষদের কর্মকর্তা ও উপস্থিত অন্যান্যরা।

এসময় স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন পর কলেজে যোগদান করে খুব ভালো লাগছে। আমার সঙ্গে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটা ঘটেছে, সেটা আমি ভুলে যেতে চাই। সবার সহযোগিতায় এখন থেকে কলেজের সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে যাব। আমার দুঃসময়ে যারাই পাশে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সহকর্মী শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৮ জুন আমি আপনাদের রক্ষা করতে পারিনি, নিরাপত্তা দিতে পারিনি। এজন্য ক্ষমা চাই। আশা করি এখন থেকে সবাই আমাদের পাশে থাকবে। আশা করি এ ধরনের ঘটনা এই কলেজে আর ঘটবে না।

গত ১৮ জুন ফেসবুকে মহানবী (সা.)-কে অবমাননার এক ঘটনার পরিক্রমায় কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশ ও কয়েকশ মানুষের সামনে জুতার মালা পরানো হয়। এমনকু আগুন দেওয়া হয় একাধিক শিক্ষকের মোটরসাইকেলেও। এ ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনা শুরু হওয়ার পর কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন স্বপন কুমার।

দীর্ঘ ৩৬ দিন পর গত ২৪ জুলাই নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ খুলে দেওয়া হয়। তবে স্বপন কুমার বিশ্বাস এদিন কলেজে যাননি। এরপর আজই তিনি কলেজে যোগদান করলেন।

নড়াইল সদর থানার ওসি (চলতি দায়িত্বে) মাহমুদুর রহমান জানান, অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিতসহ সহিংসতার মামলায় এখন মোট পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মির্জাপুর কলেজের চার ছাত্র আছেন। এরা সবাই কারাগারে আছেন। এদিকে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত কলেজছাত্র রাহুল রায় দেবও কারাগারে রয়েছে।