বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে জিনিসপত্রের দাম কমলেও দেশের বাজারে সেরকম প্রভাব পড়ছে না। ফলে এর সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে সতর্ক হওয়ার জন্য দুর্ভিক্ষের কথা বলেছেন। সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে, সবকিছু মিলে মানুষকে এত চিন্তা করার কারণ নেই দ্রব্যমূল্য নিয়ে।’ আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের চতুর্থ সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। সভায় চাল, চিনি, পেয়াজ, গম, আটা ময়দা, সয়াবিন তেল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পণ্যমূল্য বাড়ার কারণে এখন সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে, সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এক কোটি পরিবারকে কম দামে পণ্য দিচ্ছি। এটা সত্যি যে মানুষের এখন কষ্ট হচ্ছে। সময়টা এখন খারাপ যাচ্ছে। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে এ সমস্যা বৈশ্বিক। এটা একার আমাদের নয়। বৈশ্বিক সমস্যা রাতারাতি নিরসন সম্ভব নয়। তবে ডলারের দাম আর হয়তো নাও বাড়তে পারে। পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এতে বাজারে জিনিসপত্রের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।’

চিনির সংকট নিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘গ্যাসের জন্য চিনি উৎপাদন কম হয়েছিল, এজন্য চিনির দাম বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু এখন শীত পড়ছে। বিদ্যুতের চাহিদা কমছে। ফলে গ্যাসের উপর চাপ কমা শুরু হয়েছে। শিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা কিছুটা সমাধান হবে, এতে চিনির উৎপাদন বাড়বে। বাজারেও সরবরাহ বাড়বে। দামও কমে যাবে।’

গমের বিষয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘এখন ইউক্রেন থেকে গম আমদানি করার অনুমতি পাওয়া গেলেও জাহাজ ভাড়া না পাওয়ায় গম আনা যাচ্ছে না, যার প্রভাব পড়ছে গমের বাজারে। তবে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ জানিয়েছে তুরস্কে আটকে থাকা ৫৫ হাজার টন গম ভর্তি একটি জাহাজ দেশের পথে রওনা দিয়েছে। কানাডা থেকেও গম আমদানি হচ্ছে। যদিও কানাডার গমের দাম বেশি। এছাড়া রাশিয়া থেকে গম আসা শুরু হলে সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে।’ 

এছাড়া সয়াবিন তেলের দাম আবারও সমান্বয় করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। ডালের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববাজারে এখন ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। সে কারণে হয়তো বাজারে ডালের কিছুটা বেড়েছে। তবে এই বাড়াটা যৌক্তিক কিনা তা ট্যারিফ কমিশন পর্যালোচনা করবে।’

এছাড়া বৈঠকে দেশের উন্নয়ন যেন বাধা না পায় সেজন্য সিমেন্টের উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং বাড়তি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।