সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে গেল অক্টোবরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর আগের দুই মাস মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি ছিল।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

গত দুই মাসের চেয়ে কিছুটা কমে এলেও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। গত বছরের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। চলতি অর্থছরে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অক্টোবরের মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১০ শতাংশ। আগস্টে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি।

অর্থনীতির কঠিন এ সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসার তথ্যকে অত্যন্ত ভালো খবর মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, 'অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি দৃশ্যমান হারে কমে এসেছে। আশা করি আগামীতেও কমবে।'

আগামী মাসে নতুন ধান উঠলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলে আশা করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি কমে আসার পাশাপাশি মজুর সূচকও বেড়েছে অক্টোবরে। অক্টোবরে মজুর সূচক দাড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি কমার কারণ হিসেবে বিবিএস বলেছে, সয়াবিনসহ সব ধরনের ভোজ্য তেলের দর কমেছে। প্রায় বেশিরভাগ সবজির দরও কম ছিল। খাদ্যবর্হিভূত পণ্যের মধ্যে স্বর্ণের দরও কম ছিল। তবে খাদ্যপণ্যের মধ্যে চিনি, ব্রয়লার মুরগী,লবন,পেয়াজ, আদা, রশুন এবং বিভিন্ন ফলের দর বেড়েছে। এছাড়া খাদ্যবর্হিভূত পণ্যের মধ্যে পোশাক, সিলিন্ডার গ্যাস ইত্যাদির দাম বেশি ছিল।

বিবিএসের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, অক্টোবরে খাদ্যপণ্যের চেয়ে খাদ্যবর্হিভূত সূচকে মূল্যস্ফীতি বেশি। খাদ্যবহির্ভুত সূচকে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের চেয়েও বেড়েছে। অক্টোবরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ আর খাদ্যবহিভূত পণ্যে ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আবার শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি এখনও কিছুটা বেশি। গ্রামে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা শহরে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।