শুরুতে কাতার নিয়ে বলতে ইচ্ছা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো একটু বেশিই বিরোধী ছিল। অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে বৈষম্য নিয়ে অনেক কথা উঠেছে। এমনকি অনেক দেশ তো কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যার রেশ কিন্তু আজকে (শনিবার) ছিল। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এটা নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। এত সমালোচনার মধ্যেও আমি মনে করি, কাতার আয়োজক হিসেবে সফল হবে।

এবার আসি বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে। গত তিনটি আসরেই শিরোপা জিতেছিল ইউরোপের তিনটি দেশ। বিশ্বকাপ ফুটবলে লাতিনের দাপটটা যেন কমতির দিকে। তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে, এবার লাতিনে যাবে বিশ্বকাপ। মনে হওয়ার অন্যতম কারণ, সম্ভবত এটা লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। বয়সের কারণেই আমরা তাঁর শেষ মনে করছি। কিন্তু পারফরম্যান্সে তিনি এখনও তরুণের মতো। প্রতিটি ম্যাচেই দু'পায়ের জাদুতে সবাইকে মোহিত করে যাচ্ছেন তিনি। আর আর্জেন্টিনাও দল হিসেবে দুর্দান্ত। সবার মধ্যে একটা জেদ কাজ করছে, সেটা হলো মেসির জন্য বিশ্বকাপ জিততে চায়। আর্জেন্টিনাও টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত। সবকিছু মিলিয়ে কাতারে টপ ফেভারিট মেসির আর্জেন্টিনা। এরপরই আমি ব্রাজিলের কথা বলব। রাশিয়া বিশ্বকাপে নেইমারদের ভালো সম্ভাবনা ছিল। তাঁদের একজন ভালো মানের কোচ আছেন। তিতে বোঝেন যে কী করতে হয়। আর নেইমারের সঙ্গে দানি আলভেজের মতো অভিজ্ঞরা আছেন বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে, ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের ভালো সম্ভাবনা আছে।

তবে মনে রাখতে হবে যে এটা বিশ্বকাপ। এখানে আপনি কাউকে হালকা করে দেখতে পারবেন না। কারণ, ইউরোপিয়ান দলগুলো লম্বা রেসের ঘোড়া। ফ্রান্স ভালো ফর্মে নেই; কিন্তু বিশ্বমঞ্চে তারা শক্তিশালী। তাদের আপনি বাতিলের খাতায় রাখতে পারবেন না। বিশ্বকাপ ধরে রাখার জন্য সব চেষ্টাই করবে তারা। স্পেন, জার্মানি এবং ইংল্যান্ডও ভালো অবস্থায় আছে। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো তাদের খেলোয়াড় আছে। আর আমার জন্ম যেহেতু ডেনমার্কে, তাই এই দেশকেও বাতিলের খাতায় রাখা ঠিক হবে না। গত ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তারা সেমিফাইনালে উঠে প্রমাণ করেছে নিজেদের সামর্থ্য।

যেহেতু কাল (রোববার) মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপ, তাই আরও কিছুদিন পরই পরিস্কার হওয়া যাবে কাদের ভালো সম্ভাবনা আছে। তবে আমি কাতার ও ইকুয়েডর ম্যাচ নিয়ে কিছু বলতে চাই। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কাতারের সঙ্গে আমার গোলেই বাংলাদেশ জিতেছিল। এরপরও তাদের সঙ্গে আমরা কয়েকবার খেলেছি। শক্তির বিচার করলে আমি ইকুয়েডরকে এগিয়ে রাখব। তারা 'রাফ অ্যান্ড টাফ' ফুটবল খেলে। তাদের সঙ্গে কাতারের পেরে ওঠা কঠিনই হবে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, কাতার স্বাগতিক। তারা গ্যালারি থেকে সমর্থন পাবে। আর যে সমালোচনার ঝড় বইছে, সেটার জবাব মাঠে দিতেও তৈরি তারা। সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি রোমাঞ্চকর হবে বলেই মনে হচ্ছে।