বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারাদেশে সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচিকে দলটি বলছে বিভাগীয় (বিএনপির সাংগঠনিক বিভাগ) গণসমাবেশ। ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে শুরু হওয়া সমাবেশ এরইমধ্যে ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ফরিদপুর ও সিলেটে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় আগামী ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই কর্মসূচি।

গণসমাবেশগুলো ঘিরে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ ছাড়া বাকি সব এলাকায় গণসমাবেশ ঘিরে ডাকা বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহন ধর্মঘট একপ্রকারে অতিক্রম করে তাদের সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। এমনকি প্রতিটি সমাবেশের দুই দিন আগে থেকেই জনসমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সেখানে তাঁরা তাঁবু টানিয়ে রাত যাপন করেছেন।

সমাবেশ নিয়ে নানা খবরের ভিড়ে প্রথম আলো অনলাইনে ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত একটি সংবাদে জানা যাচ্ছে, আবদুর রহমান নামের একজন বিএনপির প্রতিটি গণসমাবেশেই উপস্থিত হয়েছেন। সিলেট গণসমাবেশের মাঠে উপস্থিত আবদুর রহমান সংবাদ মাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, তাঁর বাড়ি নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলায়। সিলেটের শনিবারের সমাবেশে যোগ দিতে গত বুধবার রাতে তিনি সিলেট শহরে পৌঁছান। প্রথম দিন এক আত্মীয়ের বাসায় থাকলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে আবদুর রহমান সমাবেশস্থলে থেকেছেন। সেখানেই খাওয়াদাওয়া করেছেন। পরিবহন ধর্মঘটের আশঙ্কায় আবদুর রহমান বুধবারই সিলেটে পৌঁছান। তিনি খালিয়াজুরি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন। 

আবদুর রহমান বলেছেন, সিলেট বিভাগীয় গণসমাবেশে নেত্রকোনার খালিয়াজুরি, মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত চার হাজার নেতাকর্মী সিলেটে এসেছেন। তাঁরা সমাবেশস্থল, কমিউনিটি সেন্টার, আবাসিক হোটেল ও স্বজনদের বাসায় থাকছেন। সমাবেশে তাঁরা একটা ক্যাম্প করেছেন। 

সিলেটসহ ইতোমধ্যে বিএনপির সাতটি সমাবেশ শেষ হয়েছে। এই সাতটি সমাবেশেই উপস্থিত ছিলেন আবদুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা ও রাজশাহীতেও পরবর্তী সমাবেশে তিনি উপস্থিত থাকবেন। সবশেষ ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশেও থাকবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নেত্রকোনার আবদুর রহমানের দেশের প্রতিটি সমাবেশে উপস্থিতি বিএনপিকে কতটা সহায়তা করবে?

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বাংলাদেশের দুটি বৃহৎ দলের একটি। এই দলের রয়েছে বিপুল সংখ্যক সমর্থক। সেখানে সংগঠনিক বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোতে নির্ধারিত এলাকার নেতাকর্মী-সমর্থকরা উপিস্থিত হবেন-এটি স্বাভাবিক বিবেচনা। সারাদেশে যেহেতু বিভাগীয় সমাবেশগুলো এভাবেই রাখা হয়েছে, যাতে দেশব্যাপী দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত হতে পারেন। কিন্তু তার বিপরীতে, আবদুর রহমানের মতো তৃণমূলের নেতাকর্মী-সমর্থক যাঁরা প্রতিটি সমাবেশে উপস্থিত থাকছেন তাঁদের বিষয়ে দলটির নেতাদের ভাষ্য কী?

বিএনপির গণসমাবেশগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষমসতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী যেভাবে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করে আসছেন, সেখানে প্রতিটি সাংগঠনিক বিভাগে অভিন্ন লোকজনের উপস্থিতি ভুল বার্তাও তৈরি করতে পারে। কেউ যদি বলে, এভাবে একই নেতা-কর্মী বিভিন্ন সমাবেশে উপস্থিত হচ্ছেন বলেই জনসমাগম 'বেশি' দেখাচ্ছে, তাহলে তাকে দোষ দেওয়া যাবে? সিলেট কিংবা খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে কয়েক হাজার কর্মী নিয়ে ময়মনসিংহের আব্দুর রহমানদের উপস্থিতির অর্থ হচ্ছে, বিভাগীয় সমাবেশে যত লোক দেখা যাচ্ছে, তারা সবাই ওই বিভাগের নাও হতে পারে। 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে লোকজনের উপস্থিতি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার ও প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রে আব্দুর রহমানদের মতো মানুষের উপস্থিতি সেই গুরুত্বের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বৈকি!

বিষয় : বিএনপির সাতটি সমাবেশ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

মন্তব্য করুন