'বুঝলি, মেসি হলো অন্য গ্রহের। মানুষ নয় রে. মানুষ নয়; সাক্ষাৎ দেবতা।'

'মানে কী! ফুটবল প্লেয়ার, অন্য দশটা প্লেয়ারের চেয়ে ভালো খেলে, ব্যস। এতে দেবতার কী দেখলেন?'

'আরে ভাই, ভালো-খারাপ তো সবাই খেলবে। এতে তো দোষের কিছু দেখি না। তবে মেসি হলো অন্য ধাতুতে গড়া। মনে হয়, দেবতার জিন পাইছে।'

'না রে. বিষয়টা অত হালকা মেজাজে দেখিস না। দেখলি না, পোল্যান্ডের খেলায় মেসি কী করল?'

'কী করল? একটা গোলও দিতে পারল না! দেবতা!' 

'আরে, সেটাই তো মেসির মহানুভবতা। ইচ্ছা করে পেনাল্টিতে গোল করল না। দেবতা রে দেবতা।'

'হু হু হাঃ হাঃ, হা হা। হাসায়েন ভাই, হাসায়েন না। আপনার কথা শুনলে ঘোড়াবি হাসব।'

'হ্যাঁ, তোর মতো ঘোড়া-গাধা শুনলে তো হাসবেই। কিন্তু ইচ্ছে করেই পেনাল্টিতে গোল না করা- বুঝিস?'

'পেনাল্টিতে কেউ গোল মিস করে?'

'ও বাব্বা! কচি খোকা। পেনাল্টিতে গোল মিস করেছেন ফুটবলের জাদুগর জনাব পেলে, মি. ম্যারাডোনা, ক্রিশ্চায়ানা রোনালদো, নেইমার, জিকো, রোনাল দিনহো, রুবেন, টেরি, এমনকি তোর হালের এমবাপ্পে পর্যন্ত পেনাল্টি মিস করেছে।'

'কিন্তু ওরা তো আর ইচ্ছা করে পেনাল্টি মিস করে নাই?'

'আরে, সে তো আমিও জানি- ওরা ইচ্ছা করে পেনাল্টি মিস করেনি। কিন্তু লিওনেল মেসি দেবতা রে, দেবতা। ইচ্ছা করে পেনাল্টি মিস।'

'হি হি হি। নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা। পেনাল্টি কিক কেউ ইচ্ছা করে মিস করে! তয় আপনার লিওনেল মেসি ইচ্ছা কইরা পেনাল্টি মিস করল ক্যান?'

'সে এক দুঃখজনক ইতিহাস! ১৯৩৯ সালে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে শুরু হয় বিশ্বযুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে পোল্যান্ডের প্রায় ৫৬,০০০০০ (ছাপ্পান্ন লাখ) লোক মারা যায়। সেই ত্যাগী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধায় মেসি ইচ্ছা করে পেনাল্টিতে গোল দেয়নি। দেবতারে, দেবতা। পেনাল্টি গোল দিয়ে যে কেউ খেলায় জিততে পারে। কিন্তু বীর বীরের মতো লড়াই করে জিততে চায়; কাপুরুষের মতো পেনাল্টি গোল দিয়ে নয়।' 

'খোঁড়া যুক্তি টিকব না।' 

'খোঁড়া যুক্তি কেন? সমান সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে খেলব, তবেই না স্পোর্টসম্যান স্পিরিট! যেই মেসি শত শত পেনাল্টি গোল করছে; সে কি চাইলে এই গোল করতে পারত না! খালি পোল্যান্ড বলে ইচ্ছা করে গোল করল না। ছাপ্পান্ন লাখ বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাল। বুঝলি- দেবতা রে, দেবতা। অন্য গ্রহের মেসি।'

'পেনাল্টি গোল দিতে পারে নাই- ব্যস। এর মইধ্যে স্পোর্টসম্যান স্পিরিট কই পাইলেন?' 'আরে ব্যাটা, শোন। তখনও তোগো ভিডিও রিপ্লে শুরু হয় নাই। ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজির ফাস্ট বোলার ওয়েসলি হলের বলে ইংল্যান্ডের টনি লকের ব্যাটে স্লিক করল, থার্ড স্লিপ ক্যাচ ধইরা, হাউ ইজ দ্যাট চিল্লায়া আপিল করল। কিন্তু আম্পায়ার টের পায় নাই হালকা স্লিক। তাই জোরাল আপিলে সাড়া দিল না। আম্পায়ার ব্যাটসম্যান টনি লকরে আউট দিল না। কিন্তু টনি লক সোজা ক্রিজ ছাইড়া সাজঘরের দিকে হাঁটা ধরল। বুঝলি ব্যাটা, এইডারে কয় স্পোর্টসম্যান স্পিরিট।'

'পেনাল্টি গোল করতে না পারা আবার কেমুন স্পোর্টসম্যান স্পিরিট?'

'আরে, পেনাল্টি গোল করতে না পারা আর ইচ্ছা করে গোল না করা দুটো দুই জিনিস। এই যে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সংবাদ সম্মেলনে বললেন, 'তিন হাজার বছর ধরে ইউরোপ সারাবিশ্বে যে পাপ কাজ চালিয়েছে, তার জন্য তাদের আগামী তিন হাজার বছর ধরে ক্ষমা চাইতে হবে।' এটাই হলো স্পোর্টসম্যান স্পিরিট- সত্য কথা বলা, সঠিক কাজটা করা। 

'আরে বুঝলি, এই সব দেবতার মতো মানুষের কাতারে আজ আমাদের লিওনেল মেসি, যে ইচ্ছা করে পেনাল্টি গোল দেয় না। বুঝলি, দেবতা রে. দেবতা।'

'কথায় যুক্তি থাকলেও মানতে পারলাম না- ইচ্ছা কইরা পেনাল্টিতে গোল দেয় না!'