সবাই খুব খুশি। এটা হওয়ারই কথা। ভারতের মতো দলকে হারাতে পারা খুশির বিষয়। জয়টা সাত বছর পর এলে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার উপলক্ষও মেলে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা গত দু'দিন জয়নগরে আনন্দ ভুবনের বাসিন্দা হয়েছিলেন। খুশির আঙিনা রাঙিয়েছিলেন আবিরের রঙে। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো গতকাল অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের ভালো লাগার বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। যদিও পেশাদার ক্রিকেটারদের চলমান সিরিজে তৃপ্তিরে ঢেঁকুর তোলার সুযোগ নেই। তেমন কিছু করলে চুপিসারে নিরানন্দও ঢুকে পড়তে পারে জানালার ফাঁক গলে। সে শঙ্কা ভারতের মতো ক্রিকেট পরাশক্তির বিপক্ষে কিঞ্চিৎ বেশি থাকে। কারণ, সিরিজ মানেই তো এক-দুই দিনের ব্যবধানে পরের ম্যাচটি খেলা। বিরতি পর্ব শেষ করে লিটন কুমার দাসদের আজই রোহিত শর্মাদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামতে হচ্ছে। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ম্যাচটি স্বাগতিকদের জন্য সিরিজ নির্ধারণী হলেও ভারতের জন্য সিরিজ বাঁচানোর। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচে সফরকারীরা যে কোমর বেঁধে নামবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কোচ ও খেলোয়াড়রা এ বিষয়টি ভালো করেই জানেন এবং বোঝেন। টিম মিটিংয়ে কোচ তাই ক্রিকেটারদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নিতে হলে এই ম্যাচে কেন প্রথম ম্যাচের চেয়ে প্রতিটি বিভাগে দ্বিগুণ ভালো খেলতে হবে।

এই মিরপুরেই ২০১৪ সালে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের সবক'টি জিততে জিততে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ঠিক পরের বছরই মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ভোজবাজির মতো ভারতকে হিসাবটা কেমন চুকিয়ে দিয়েছিল। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ম্যাজিক বোলিং নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন রোহিতদের সামনে। এক দিনের ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে সেই শেষ ম্যাচ ও সিরিজ জয় বাংলাদেশের। মাঝে সাত-সাতটি বছর পেরিয়ে গেছে জয়হীন। ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও বিশ্বকাপে দুটি আর দুবাই এশিয়া কাপে দুটি ম্যাচ খেলে হেরেছে। সেই জয়খরা কেটেছে রোববার চেনা মিরপুরে। এবার মেহেদী হাসান মিরাজ নায়কের ভূমিকা নিলেও মুস্তাফিজ পার্শ্বনায়ক। তিনি জুটিতে যোগ্য সঙ্গী হওয়াতেই না চালকের আসনে থেকে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে পেরেছেন মিরাজ। এই পারফরমার মিরাজকে খুব পছন্দ কোচ ডমিঙ্গোর। বাংলাদেশ দলে যাঁর ভবিষ্যৎ দেখছেন সাকিবের বিকল্প হিসেবে। 'মিরাজ এই দলটির নায়ক। সব সংস্করণেই ধারাবাহিক সে। যে কোনো জায়গায় ব্যাট করতে পারে। চাপের মুখে দারুণ খেলে। ওয়ানডে বোলার র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই বা তিন নম্বরে আছে সে। তার ওপর সব সময় নির্ভর করা যায়। রান করার জন্য কঠিন পরিস্থিতিতে পাঠানো যায় তাকে। চাপের মুহূর্তে সত্যিই ভালো করে সে। এটা তার বিশেষ ইনিংস, যেটা ম্যাচটাকে একত্র করেছে। সে তার চিন্তা-ভাবনায় পরিস্কার ছিল। এবারই প্রথম এটা করেনি।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪৫ রানে ৬ উইকেট ছিল। সে ম্যাচেও অসাধারণ খেলেছে। আমি তার ওপর খুশি। দলের ভেতরে সে দারুণ একটা চরিত্র।' কোচ এই উচ্ছ্বসিত প্রশংসার ভেতর দিয়ে মিরাজকে সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভালো খেলার প্রেরণা জোগালেন।

গত ম্যাচে মিরাজকে নায়ক হওয়ার মঞ্চ করে দিয়েছিলেন মূলত সাকিব ও এবাদত। তাঁরা দু'জন 'আউট অব দ্য বক্স' বোলিং করে ৯ উইকেট নেওয়াতে ভারত ১৮৬ রানে অলআউট হয়েছিল। ছোট টার্গেট পূরণ করার চ্যালেঞ্জ মিরাজদের ওপর তাই চাপ হয়ে চেপে বসতে পারেনি। আজও সেই বোলিং ইউনিটের ওপর বড় দায়িত্ব থাকবে। তবে কোচ বেশি ফোকাস দিচ্ছেন ব্যাটিংয়ে। 'এই ফরম্যাটে আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। দেশে আমাদের রেকর্ড খুবই ভালো। ভারতের মতো বড় দলের বিপক্ষে খেলা দারুণ একটা ব্যাপার। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে আমরা পরীক্ষা দিচ্ছি। এর মানে হলো, ভারত শক্তিশালীভাবে ফিরে আসবে। প্রথম ম্যাচের চেয়ে সব বিভাগেই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে আমাদের, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে।' জয়ের ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে এবং উন্নতির ধারা বজায় রেখে আজই সিরিজ নিশ্চিত করে নেওয়ার পক্ষে কোচ। তবে এই ম্যাচে মরণকামড় দেবে ভারত। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে শিখর ধাওয়ান প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে গেছেন। 'কালকের (আজ) ম্যাচ নিয়ে আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়া আমাদের জন্য এটাই প্রথম না। এটা খুবই স্বাভাবিক। আমরা জানি, এ পরিস্থিতিতে কীভাবে ফিরে আসতে হয়। অবশ্যই বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে। তবে শেষ ম্যাচের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন ইন্টারেস্টিং ছিল।' শিখর বোঝাতে চেয়েছেন, লো স্কোরিং ম্যাচের ফল যে কোনো দিকে যেতে পারে। স্বাগতিকদের মতো তারাও তাই মনোযোগ দিচ্ছেন ব্যাটিংয়ে, বড় স্কোর গড়ে তোলার দিকে।