মিরসরাইয়ে ভারতীয় নাগরিককে জিম্মি করে জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০১৯      

 মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

ভারতীয় নাগরিক মো. সেলিম -সমকাল

মিরসরাইয়ে ভূয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে বাংলাদেশী বংশদ্ভূত ভারতীয় এক নাগরিকের কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৭ এপ্রিল উপজেলা জোরারগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতারক চক্র ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নেয় বলে অভিযোগ করেন মো. সেলিম নামে ভারতীয় ওই নাগরিক।

এ বিষয়ে তিনি ঢাকা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হলফনামায় তার কাছ থেকে জোর করে জমি রেজিস্ট্রি নেওয়া হয় বলে স্বীকারোক্তি দেন। তার বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র নেই বলেও দাবি করেন তিনি। দলিলে জাতীয় পরিচয়পত্রের যে নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালালে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের বৈধ ও সঠিকতা যাচাইকরণ ইউনিটের সহকারী পরিচালক সরওয়ার হোসেন জানান, ‘মোহাম্মদ সেলিম, পিতা- নুরুল ইসলাম, জাতীয় পরিচিতি নম্বর-১৯৫৮১৫১৫৩৭৭৪৬১৪৭০ অনুসন্ধান করে জাতীয় তথ্য ভা-ারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

স্থানীয়রা জানান, কাটাছড়া ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের গনি ভূঁঞা বাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সেলিম ১৯৮৪ সালে ভারত চলে যান। তারপর মাঝে মাঝে তিনি বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন।

মোহাম্মদ সেলিম জানান, ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সাড়ে দশ শতক সম্পত্তি ২০০৪ সালের ৩ জুলাই ভারত থেকে এসে দুই ভাতিজা মো. মোসলেম উদ্দিন ও জিলহাজ উদ্দিনকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দানের স্বীকৃতিপত্র প্রদান করেন এবং দখল বুঝিয়ে দেন। চলতি বছরের ৩১ মার্চ তিনি বাংলাদেশে এলে তার চাচাতো ভাই দলিল লেখক কামরুল আনোয়ার মিলন তাকে বাসায় দাওয়াত করেন। গত ৭ এপ্রিল দাওয়াত খেতে গেলে তাকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ভূয়া জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে জোরারগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে মিলন গংদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।

ওই দলিলের দলিল লেখক নুরের নবী বলেন, সত্য গোপন করে কামরুল আনোয়ার মিলন দলিল লেখক হিসেবে দলিলে আমার স্বাক্ষর নেন। এতে কোনো জালিয়তি হয়ে থাকলে তার দায় আমি নেব না।

দলিল গ্রহীতাদের একজন কামরুল আনোয়ার মিলন বলেন, দাতা নিজে স্বেচ্ছায় এসে জায়গা রেজিস্ট্রি দিয়েছেন। আমরা প্রচলিত আইন মেনেই দলিল রেজিস্ট্রি করেছি।

জোরারগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন খন্দকার বলেন, রেজিস্ট্রি অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র সনাক্ত করার ব্যবস্থা নেই। কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। কাগজপত্র ভূয়া প্রমাণিত হলে ওই দলিল বাতিল করা হবে।