চট্টগ্রাম

পায়েল হত্যা মামলা ছয় মাসের জন্য স্থগিত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০১৯      

চট্টগ্রাম ব্যুরো

মো. সাইদুর রহমান পায়েল- ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে বিচারাধীন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সাইদুর রহমান পায়েল হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ঢাকা বিভাগে সংঘটিত অপরাধের চট্টগ্রাম বিভাগের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম চলায় দুই আসামির আবেদনে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।  

সোমবার হাইকোর্টের আদেশ চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আসার পর মামলাটির শুনানি করে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আবদুল হালিমের আদালতে এখন পর্যন্ত এ মামলায় নয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের পিপি আইয়ুব খান বলেন, পায়েল হত্যা মামলার আসামিদের আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট ছয় মাসের জন্য এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকার চাইলে ঢাকা বিভাগের যে কোনো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরে কোনো বাধা নেই বলে আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামের আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হাইকোর্টে যায় মামলার আসামি গাড়িচালক জামাল হোসেন ও হেলপার ফয়সাল হোসেন। তাদের যুক্তি, মামলাটি যেহেতু মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানায় করা হয়েছে, সেহেতু চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচার চলতে পারে না।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মনজুর আহমেদ আনছারী বলেন, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

২০১৮ সালের ২১ জুলাই রাতে দুই বন্ধু আকিবুর রহমান আদর ও মহিউদ্দিন শান্তর সঙ্গে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হন সাইদুর রহমান পায়েল। ২৩ জুলাই মুন্সীগঞ্জ উপজেলার ভাটেরচর সেতুর নিচের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে গজারিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় হানিফ পরিবহনের ওই বাসের সুপারভাইজার জনিকে ঢাকার মতিঝিল এবং চালক জামাল হোসেন ও তার সহকারী ফয়সাল হোসেনকে আরামবাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ও ফয়সাল দুই ভাই। এ ঘটনায় পায়েলের মামা গোলাম সরোয়ার্দী বিপ্লব বাদী হয়ে চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

গজারিয়া থানা পুলিশ ওই তিনজনকে আসামি করে ওই বছরের ৩ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দেন। পরে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বিচার কাজ শুরু হলেও পরিবারের আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ গত বছর ২৪ ডিসেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে মামলাটি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। এর পর থেকে মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেই বিচারাধীন ছিল।

বিষয় : পায়েল হত্যা মামলা চট্টগ্রাম