নুসরাতকে পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নেয় পপি

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১৮ জুলাই ২০১৯      

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী

আলিম পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। নিজের আসনে বসতে না বসতেই তাকে ডেকে নিয়ে যায় আরেক পরীক্ষার্থী উম্মে সুলতানা পপি। কিছুক্ষণ পরই তিনতলার দিকে থেকে শরীরে জ্বলন্ত আগুন নিয়ে চিৎকার করতে করতে নিচে নেমে আসেন নুসরাত।

এভাবেই ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত হত্যার ঘটনার বিবরণ দেন এক শিক্ষক ও নুসরাতের সহপাঠী দুই পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ সময় তাদের জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ আগামী রোববার নির্ধারণ করে আরও চার সাক্ষীকে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণকালে বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ ১৬ আসামিকে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে হাজির করে। 

নুসরাতের পরীক্ষার হলের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক কবির আহাম্মদ আদালতে জানান, ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর ৫-৭ মিনিট আগে তিনি খাতা বিলি করেন। তার হলে ২৪ জন ছাত্রীর সিট পড়ে। খাতা দেওয়ার সময় নুসরাত জাহান রাফি সিটে ছিলেন না। তবে সেখানে তার ফাইল ও অ্যাডমিট কার্ড রাখা ছিল। কিছুক্ষণ পরই নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

নুসরাতের পাশের সিটে বসা নাসরিন ফাহমিদা আক্তার তার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আদালতে বলেন, পরীক্ষা হলে নুসরাত আসার পরপরই পপি নামের আরেক পরীক্ষার্থী তাকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই নুসরাতের শরীরে আগুন লাগে। আরেক পরীক্ষার্থী নাসরিন সুলতানা আদালতে বলেন, আসামি উম্মে সুলতানা পপির পাশে তার সিট ছিল। খাতা বিলির সময় পপি তড়িঘড়ি করে ক্লাসে প্রবেশ করে। তার একটু পরেই নুসরাত শরীরে আগুন নিয়ে সেন্টারের নিচতলায় নেমে আসে। তখন শিক্ষক, মাদ্রাসা কর্মচারী ও অন্য পরীক্ষার্থীরা নুসরাতের শরীরের আগুন নেভান ও হাসপাতালে নিয়ে যান।

সাক্ষ্য দিতে আসা নাসরিন সুলতানা ও ফাহমিদা আক্তার আদালতে আরও জানান, ২৭ মার্চ নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ যৌন নির্যাতন করেছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি হাফেজ আহম্মদ জানান, আদালত আগামী রোববার পরবর্তী তারিখ ধার্য করে সাক্ষী তাহমিনা আক্তার, বিবি হাজেরা, আবু বক্কর সিদ্দিক ও মো. আকবরকে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে একদল দুর্বৃত্ত পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তার মৃত্যু হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় পিবিআই তদন্ত শেষে মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় এ পর্যন্ত ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এর আগে ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ ছাত্রী নুসরাতকে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করে। এ নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন নুসরাতের মা। এরই জের ধরে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়।