সিনহা হত্যা মামলা: চার আসামিকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২০     আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২০   

কক্সবাজার অফিস

সিনহা রাশেদ খান

সিনহা রাশেদ খান

টেকনাফে চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বোনের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির চার জনকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার জামিল উল হক কক্সবাজার জেলা কারাগার গেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই চার জন হলেন- এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, 'ওই চার আসামিকে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আগামীকালও (রোববার) তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের মোট দু'দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।'

তিনি জানান, এ মামলায় গ্রেপ্তার অপর তিন আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলি ও সাময়িক বরখাস্তকৃত এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা বর্তমানে জেলে আছেন।

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।

ঘটনার পর কক্সবাজার পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাশেদ তার পরিচয় দিয়ে 'তল্লাশিতে বাধা দেন'। পরে 'পিস্তল বের করলে' চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। তবে পুলিশের এমন ভাষ্য নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তার এক সঙ্গীর বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের ভাষ্যের কিছুটা অমিল রয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। এমন প্রেক্ষাপটে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বুধবার সকালে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ পুলিশের ৯ সদস্যের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের আদালতে মামলা করেন সিনহা রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়া। আদালতের নির্দেশে বুধবার রাতেই মামলাটি টেকনাফ থানায় নথিভুক্ত হয়।

এরপর বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশ সদস্য। পরে র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে তাদের ৭ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর সাতজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।