করোনাকাল

'নতুন অতিথি'তে ভরপুর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার অনেক পশুপাখির ঘরেই এ সময়ে এসেছে নতুন অতিথি	 সমকাল

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার অনেক পশুপাখির ঘরেই এ সময়ে এসেছে নতুন অতিথি সমকাল

অনুকূল পরিবেশে নতুন অতিথিতে ভরে উঠেছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। এখানে জন্ম নিয়েছে বাঘশাবক, ময়ূর, টিয়া, ঘুঘু, শালিক, ইন্দোনেশিয়ার মুরগিসহ বেশকিছু দৃষ্টিনন্দন প্রাণী। করোনা মহামারিতে জনশূন্য চিড়িয়াখানার অনেক খাঁচাই এখন নতুন অতিথিতে পরিপূর্ণ। নিরিবিলি পরিবেশে পরম মমতায় বেড়ে উঠছে প্রতিটি পশুপাখি।
করোনার বন্ধের সময়ে গত কয়েক মাসে এই চিড়িয়াখানায় জন্ম নিয়েছে চারটি ময়ূর, ১০টি টিয়া, ইন্দোনেশিয়ার সাতটি মুরগি, একটি বাঘশাবক, তিনটি চিত্রা হরিণ, একটি মায়া হরিণ, চারটি ককাটিয়েল, একটি গয়াল, দুটি সজারু, একটি ঘোড়াসহ আরও বেশকিছু পশুপাখি। আগামী কয়েক মাসে জেব্রাসহ আরও কয়েকটি পশুপাখির ঘরেও আসবে নতুন অতিথি। পাঁচটি ডিম দিয়েছিল ময়ূর। তার মধ্যে নতুন চারটি ময়ূর ছানা জন্ম নেওয়ায় চিড়িয়াখানায় এখন মোট আটটি ময়ূরের আবাস হয়েছে।
চট্টগ্রামের পাহাড়বেষ্টিত ফয়'স লেকের পাশে ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা করা হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর সরকারি নির্দেশনা মেনে চিড়িয়াখানায় কয়েক মাস ধরে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নতুন পশুপাখির জন্ম নেওয়ায় আগের চেয়ে বহুগুণ সমৃদ্ধ হয়েছে পুরোনো এই চিড়িয়াখানাটি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই খুলবে চট্টগ্রামবাসীর প্রিয় এই বিনোদন কেন্দ্রটি। আর তখন নতুন অতিথিদের নিজ চোখে দেখতে পারবেন দর্শনার্থীরা।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন সমকালকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দেশনার পর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে চিড়িয়াখানা। প্রকৃতির এই সুসময়ে অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় চিড়িয়াখানায় অনেক নতুন অতিথির জন্ম হয়েছে। নতুন পশুপাখিতে ভরপুর হয়ে উঠেছে চিড়িয়াখানার অনেক খাঁচা। করোনায় দর্শনার্থীর প্রবেশ বন্ধ থাকলেও পশুপাখির পরিচর্যা ও খাবার আগের তুলনায় এখন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পশুপাখির জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারায় আগামী কয়েক মাসে জেব্রাসহ আরও কয়েকটি পশুপাখির ঘরেও নতুন অতিথি আসবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দর্শনার্থীরা নতুন অতিথিতে ভরপুর অন্যরকম এক চিড়িয়াখানা দেখতে পারবেন।
চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মো. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, করোনার নিরিবিলি পরিবেশ প্রাণীর জন্য অনুকূল। মহামারির এই দুঃসময়ে বেশকিছু নতুন অতিথির আগমন আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। বয়স্কদের সঙ্গে কোলাহলমুক্ত নান্দনিক আঙিনায় নতুন অতিথিগুলোও আস্তে আস্তে বেড়ে উঠছে।
পুরোনো এই চিড়িয়াখানায় তৈরি করা হয়েছে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থের দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রমী মিনি এভিয়ারি। লাভ বার্ড, ম্যাকাও, লাফিং ডাভ, ফিজেন্ট, রিংনেড পারোট ও কোকাটেইল- এই ছয় প্রজাতির দৃষ্টিনন্দন সাড়ে তিন শতাধিক বিদেশি পাখি সারাদিন কলকাকলিতে মাতিয়ে রাখে এটি। পাখির এই রাজ্যটি ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে চিড়িয়াখানায়। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি অনেক পশুপাখি আনা হয়েছে এখানে। আছে ৬৬টি প্রজাতির ৬২০টি পশুপাখি। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় ছয় একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ইতোমধ্যে জন্ম নিয়েছে বিরল কিছু প্রাণী। দেশে প্রথমবারের মতো বিরল সাদাবাঘ জন্ম নিয়েছে এখানে। হাতে তৈরি ইনকিউবেটরে ২০টি অজগরের ৩৫টি ডিম থেকে ফোটানো হয়েছে ২৬টি অজগর ছানাও। যা দেশে প্রথমবারের মতো করা হয়েছে।



বিষয় : চিড়িয়াখানা