ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাওলানা মনিরুজ্জামানের জানাজায় মুসল্লির ঢল

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২০   

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

জানাজার নামাজে মুসল্লিরা

জানাজার নামাজে মুসল্লিরা

করোনা পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদঘুর জামিয়া সিরাজীয়া দারুল উলুম মাদরাসার অধ্যক্ষ শায়খুল হাদিস আল্লামা মনিরুজ্জামান সিরাজীর জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। জানাজায় অংশ নিতে জেলা সদরসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসেন। 

রোববার বাদ আছর মাদরাসাতে মনিরুজ্জামান সিরাজীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কম লোকসমাগমের জানাজা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যেও করোনা পরিস্থিতিতে এত লোকের সমাগম হয়।

জানাজায় অংশ নিতে লোকজন কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দাঁড়িয়ে পড়লে ঘণ্টা দুয়েকের বেশি সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

মনিরুজ্জামান সিরাজী (৯১) দুপুরে পৌর এলাকার ভাদুঘরের নিজ বাসভবনে মারা যান। ‘বড় হুজুর’ হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান সিরাজী হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি ও ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আমীর ছিলেন।

জানাজায় ইমামতি করেন খালেদ সাইফুল্লাহ সিরাজী। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার জানাজার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়াম, জেলা ঈদগাহ মাঠ বাদ দিয়ে ভাদুঘরের মাদরাসায় সীমিত পরিসরে জানাজা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়। 

বাদ আছর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলেও বেলা ৪টা থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসতে শুরু করে। আগতদের পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এত লোক জড়ো না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। সন্ধ্যায় ৬টায় জানাজায় শুরু হওয়ার সময় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিয়াল্লিশ’র থেকে ভাদুঘর পর্যন্ত লোকজন জানাজার জন্য দাঁড়িয়ে পড়েন। যে কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদের দাবি, জানাজায় ছয়-সাত হাজার লোকের সমাগম হয়েছে। সড়কে লোক সমাগমের কারণে যান চলাচল বন্ধ ছিলো বলে তিনি স্বীকার করেছেন।