ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

চট্টগ্রামের ১৬ এমপির হলফনামা

সম্পদের চেয়ে ঋণ বেশি তথ্য ও ভূমিমন্ত্রীর

সম্পদের চেয়ে ঋণ বেশি তথ্য ও ভূমিমন্ত্রীর

.

 সারোয়ার সুমন ও শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৪৩

চট্টগ্রামের ১৬ এমপির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের। ২৬ কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও তাঁর ঋণ ৭ কোটি টাকা। একই অবস্থা তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের। হলফনামায় তাঁর উল্লিখিত সম্পদের মূল্য কোটি টাকার ঘরে থাকলেও ঋণ রয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে অন্যদের মধ্যে ১০ বছর ব্যবধানে তিন গুণ সম্পদ বেড়েছে চট্টগ্রাম-৪ আসনের এমপি দিদারুল আলমের। ২০১৪ সালের সাড়ে ১৭ কোটি টাকার সম্পদ এখন হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি। আয়ে সবচেয়ে পরিবর্তন এসেছে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এমপি আবু রেজা মো. নেজামুদ্দিন নদভীর। বার্ষিক আয় ৫০ লাখ থেকে এখন পৌনে ২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
বর্তমান এমপিদের মধ্যে সবচেয়ে সম্পদশালী তিনি। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক সাত মাস আগে চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী নোমান আল মাহমুদের। নির্বাচনের আগে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা, যা এখন নেমে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ টাকা।
আয়ের দিক দিয়ে শীর্ষে এমপি দিদার। দ্বিতীয় রাউজানের এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর বার্ষিক আয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা। তৃতীয় আবু রেজা মো. নেজামুদ্দিন নদভীর আয় প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে আয়ের খাত অনেক বড় করতে পেরেছেন তিনি। পাঁচ বছর আগে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে তিনি আয় করেছেন ৫০ লাখ টাকা। এখন তা তিন গুণ বেড়েছে। অন্যদের মধ্যে ১ কোটি টাকার কাছাকাছি আয় আছে মাহফুজুর রহমান মিতা, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও এম এ লতিফের। এমপিদের মধ্যে সবচেয়ে কম আয় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের, মাত্র ৪ লাখ টাকা।
সবচেয়ে বেশি ৫৬ কোটি টাকার সম্পদ দিদারুল আলমের। এরপর সাইফুজ্জামানের প্রায় ২৬, এ বি এম ফজলে করিমের প্রায় ১৫ এবং ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে মিরসরাইয়ের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও নওফেলের। ৮ কোটি টাকার কাছাকাছি সম্পদ নদভী ও সামশুল হক চৌধুরীর। অন্যদের সম্পদ ৩ থেকে ৭ কোটি টাকার মধ্যে। তবে নোমান আল মাহমুদের সম্পদ সবচেয়ে কম, অর্ধকোটি টাকা।
২০১৪ সালে প্রথম নির্বাচন করার সময় দিদারুল আলমের সম্পদ ছিল মাত্র ১৭ কোটি, ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার বেড়ে হয় ৩৫, যা এবার বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে ১০ বছরে তিন গুণ সম্পদ বেড়েছে তাঁর। সম্পদে বাম্পার ফলন হলেও তিনি নৌকার মাঝি হতে পারেননি। তাঁর আসনে নতুন প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দিদারুল এবার তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। সম্পদ বাড়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান। পাঁচ বছর আগে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছিল ২০ কোটি টাকার, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ কোটি।
চট্টগ্রামের ১৬ এমপির মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রম নোমান আল মাহমুদ। সাত মাস আগে এমপি হওয়ার সময় তাঁর যে পরিমাণ আয় ও সম্পদ ছিল, এখন বেড়ে হয়েছে ১০ লাখ ৭০ হাজার ৩৯ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নোমানের নগদ টাকার পরিমাণ ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩১ টাকা। সাত মাস আগে নিজের নগদ টাকা ছিল ১৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯২ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাত মাস আগে নোমানের জমা ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর জমা আছে ৭ হাজার ৬৪৯ টাকা। গত মার্চে উপনির্বাচনে তিনি হলফনামায় বছরে আয় দেখিয়েছিলেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এমপি হওয়ার পরে গত সাত মাসে ব্যবসা থেকে আয় বাড়েনি। শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা বেড়েছে ৯৫ লাখ ৮০৬ টাকা। সাত মাস আগে নির্ভরশীলদের আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিল। এখন সেটিও নেই।

আরও পড়ুন

×