হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা থেকে ফের বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তিন মাস বিরতি দিয়ে পুরোনো কর্মে ফিরেছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানের লোকেরা। এই বালুখেকোদের বিরুদ্ধে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দিয়ে আসছিলেন নদী পাড়ের মানুষ। অবশেষে প্রশাসনের টনক নড়েছে।

বুধবার অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে নৌপুলিশ। এ সময় দুটি ড্রেজার, পাঁচটি বাল্কহেডসহ ১৬ জনকে আটক করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর নৌ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান।

পুলিশ জানায়, বালুখেকোদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে নামে চাঁদপুর নৌ থানাসহ তিন ফাঁড়ির পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার আলুর বাজার, রাজরাজেশ্বর, মিনি কক্সবাজার, সফরমালীসহ শরীয়তপুর জেলার ঘোষেরহাটে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় আটকদের মধ্যে আছেন- নুর আলম, রিয়াদ, সাখাওয়াত, আলমগীর, জাহিদ, মোস্তফা খান, মরু মোল্লা ওরফে মনির হোসেন, সোহাগ, নাসির খলিফা, মো. সিদ্দিক, জাহিদুল ইসলাম। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের পাঁচটি মামলা হয়েছে।

চাঁদপুরের এসপি মো. কামরুজ্জামান বলেন, 'সরকারি সম্পদ রক্ষায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।'

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম। পদ্মা-মেঘনার চাঁদপুর ও শরীয়তপুর অংশে যত অবৈধ ড্রেজার আছে, এর অধিকাংশই তার। সেলিম খানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করার পর অবশেষে অভিযান চালানো হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সেলিম খানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মেঘনায় (চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে অবস্থিত ২১টি মৌজায়) জনস্বার্থে নিজ খরচে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করতে নির্দেশনা চেয়ে ২০১৫ সালে রিট করেছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুরের ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে হাইকোর্ট রায় দিয়ে ডুবোচর থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

এরপর কোনো বিধি ও অনুমতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন শুরু করেন সেলিম খান। এতে নদী পাড়ের মানুষ আপত্তি জানালে জেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। এরই মধ্যে গত ৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপেক্ষিতে হাইকোর্টের ওই আদেশও স্থগিত হয়। এ ঘটনার পর বালুখেকোরা গা-ঢাকা দিলেও রাতের আঁধারে কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।