ভুয়া স্মারক নম্বর দিয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বিল জালিয়াতির ঘটনায় হিসাবরক্ষক মো. ফোরকানকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জালিয়াতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার এক অফিস আদেশে হাসপাতারের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন খালেদকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ফোরকানের দায়িত্বে নিয়োজিত করে দায় সেরেছেন তারা। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এ আদেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতিতে জড়িত ফোরকানকে বাঁচাতে মরিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ জন্য পুরো দায় ঠিকাদারের ওপর চাপিয়ে তাঁকে অভিযোগ থেকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জানা যায়, যে স্মারক নম্বরটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটসোর্সিং খাতে নিয়োজিত জনবলের বেতন-ভাতা পরিশোধের আদেশ সংক্রান্ত।

জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আটটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যা, আইসিইউ ভেন্টিলেটর ও কার্ডিয়াক পেশেন্ট মনিটর কেনার ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার একটি বিল মামলা সংক্রান্ত কারণে বকেয়া ছিল। দুদকের মামলাটি শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।

গত ২৬ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সুশীল কুমার পালের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ব্যয় মঞ্জুরির আদেশ তৈরি করা হয়। আদেশে ব্যবহার করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যয় মঞ্জুরির একটি স্মারক নম্বর। সেই স্মারক নম্বর ব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বকেয়া বিলটি ছাড়ের জন্য প্রস্তুত করেন জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. ফোরকান।

যেখানে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক সেখ ফজলে রাব্বিরও স্বাক্ষর রয়েছে। গত মঙ্গলবার বিলটি নিয়ে বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে যান তিনি। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বিলটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে তাঁকে পুলিশে দেওয়া হলেও কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিলের সঙ্গে জমা দেওয়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ব্যয় মঞ্জুরিপত্রটিও ভুয়া বলে বুধবার এক চিঠিতে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সুশীল কুমার পাল। জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের বিষয়টিও জানান তিনি। কিন্তু বুধবার ফোরকানকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দায় সেরেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি সমকালকে বলেন, ‘থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। থানা থেকে বলা হয়েছে, এটি সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনা। এটি তাঁদের এখতিয়ারাধীন নয়। তাঁরা দুদকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। পরে দুদকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁরা যেভাবে এজাহার দিতে বলেছেন, সেভাবে এজাহার তৈরি করে বৃহস্পতিবার মামলা করা হবে।’

এজাহারে হিসাবরক্ষক ফোরকানকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিলটি দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আমরা যাচাই-বাছাই না করে স্বাক্ষর করেছি, এটা আমাদের ভুল ছিল। এর জন্য মূলত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়ী। তাদের অভিযুক্ত করা হবে। এর সঙ্গে আর কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে দুদককে বলব।