কক্সবাজারের টেকনাফে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত নুরুল হক ভুট্টো হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামি একরামসহ বাকি আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্য ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের ধরছে না। আসামিরা উল্টো তাদের হুমকি দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুট্টোর ছোট ভাই নুরুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ মে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে সালিশি বৈঠক করে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন ভুট্টো। বড় হাবিরপাড়া ডেইল এলাকার মসজিদের পাশে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি একরামের নেতৃত্বে ভুট্টোর ওপর হামলা করা হয়। প্রাণে বাঁচতে ভুট্টো স্থানীয় একটি মসজিদে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। একরাম নিজেই ভুট্টোর ডান পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। সেটি নিয়ে হামলাকারীরা উল্লাস করে চলে যায়।

নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন তাদের চাচাতো ভাই এনামুল হক। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন মামলার প্রধান আসামি একরামের চাচা আলী আহমদ। এনামুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর নির্বাচনী বিরোধের জেরে ভুট্টোকে খুন করা হয়। একরাম এখন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

দুই বছর আগে ভুট্টোর আরেক ভাই নুর মোহাম্মদও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, ২০১৯ সালের ২২ মার্চ নুর মোহাম্মদকে ধরে নিয়ে ৪০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। নুর মোহাম্মদের স্ত্রী ৫ লাখ টাকা নিয়ে প্রদীপের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। পুরো টাকা দিতে না পারায় রাতের বেলা কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন তার মা আবেদা খাতুন, ভুট্টোর স্ত্রী নাজনীন সুলতানা, নুর মোহাম্মদের স্ত্রী লাইলা বেগম ও অপর ভাই নুরুল আবসার খোকন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।