নানা আয়োজনে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে শেখ কামালের বহুমুখী গুণের কথা ধরা হয়। বলা হয়, মাত্র ২৬ বছরের জীবনে বাঙালির সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিরল প্রতিভাবান উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে অসামান্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অনন্য এই সংগঠক।

শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্রবার সকাল ১১টার দিকে আলোচনা সভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভার।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় এবং চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার আশরাফ উদ্দিন বলেন, '১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ষড়যন্ত্রকারীদের পৈশাচিক হামলায় শেখ কামালের মৃত্যু হলেও তিনি বেঁচে আছেন আমাদের স্মৃতিতে, অন্তরে।'

আ জ ম নাছির বলেন, 'পারিবারিক পরিবেশ থেকেই সবকিছুর পাশাপাশি রাজনীতির পাঠও গ্রহণ করেছিলেন শেখ কামাল। বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধারাবাহিক আপসহীন সংগ্রামের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় নিজেকে তৈরি করেছিলেনতিনি।'

ডিআইজি ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, 'খেলাধুলার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চার প্রতি শেখ কামালের আগ্রহ ও কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা তার প্রতিভা ও মননের বিশাল দিক উন্মোচিত করে। অভিনয়, সংগীত চর্চা, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতাসহ সকল ক্ষেত্রে তিনি মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ক্ষণজন্মা এই পুরুষ বেঁচে থাকলে দেশ পুনর্গঠনে কাজ করতে পারতেন।'

তরুণ সমাজের চিত্তের প্রফুল্লতা নিশ্চিত করা ও বিপথে ধাবিত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে শেখ কামাল খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন বলে বক্তব্যে বলেন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়। সভা শেষে শেখ কামালে প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।