কক্সবাজারে প্রতারক চক্রের ১৯ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ট্যুরিস্ট পুলিশ তাদের আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ করার অভিযোগ রয়েছে। নানাভাবে তারা পর্যটকদের হয়রানি করে থাকে।

সূত্র জানায়, সকালে দূরপাল্লার বাসে পর্যটকের বেশে কক্সবাজারে প্রবেশ করেন ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। গাড়ি থেকে নামতেই পর্যটক ভেবে তাঁদের নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। এ সময় ১৯ জনকে আটক করে পুলিশ। জব্দ করা হয় ১৪টি টমটম। আটকরা হলো- জাফর আলম, আব্দুল্লাহ, ইসমাইল, ইব্রাহিম, নুর আলম, চাঁদ মিয়া, নজু আলম, রুবেল, জুয়েল মিয়া, সাদেকুর, সৈয়দ নুর, সাহিদ, হেলাল উদ্দিন, সাগর, গিয়াস উদ্দিন, সৈয়দ আলম, মোহাম্মদ হোসেন, রবিউল হাসান ও ইমরান। তাদের প্রায় সবার বয়স ২০ থেকে ৪০-এর মধ্যে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অটোরিকশা চালকের বেশে প্রতারকরা পর্যটকদের হয়রানি করে আসছে। তারা পর্যটকদের অল্প ভাড়ায় ভালো হোটেলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ ব্ল্যাকমেল করত। পর্যটকদের মালপত্র ছিনতাই, মেয়েদের উত্ত্যক্ত, এমনকি ধর্ষণের মতো ঘটনার সঙ্গেও তারা জড়িত। এ চক্রের কিছু সদস্য পর্যটকদের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে টাকা হাতিয়ে নিত। আটকরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের নানাভাবে হয়রানি করা কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, সকালে গাড়ি থেকে নামলেই পর্যটকদের টানাটানি শুরু করে দালাল চক্র। ২০ টাকা ভাড়ায় হোটেলকক্ষে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পর্যটকদের প্রথমে তোলা হয় টমটমে। তারপর চলন্ত অবস্থায় কম মূল্যে হোটেল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে পর্যটকদের নেওয়া হয় নির্দিষ্ট কিছু গেস্ট হাউস ও হোটেলে। সেখানে পৌঁছে দিলে দালাল চক্র কক্ষ ভাড়ার বিপরীতে কমিশন পায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। পর্যটক যদি নিজের অগ্রিম বুকিং করা হোটেলে যেতে চান, সে ক্ষেত্রে ২০ টাকার ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আদায় করা হয়। টাকা দিতে না চাইলে টমটমচালক কিংবা প্রতারক চক্র পর্যটকদের নাজেহাল করে।

পুলিশ জানায়, শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, লিংক রোড, ডলফিন মোড়, সুগন্ধা পয়েন্ট, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে কটেজ জোন, হলিডে মোড়, ঝাউতলা, লালদীঘির পাড়ে ১০টির বেশি দালাল চক্রের অন্তত তিন শতাধিক সদস্য তৎপর থাকে। তারা ইজিবাইক চালিয়ে বা ঘুরে পর্যটক সংগ্রহ করে। প্রলোভন দেখিয়ে হোটেল-গেস্ট হাউসে নিয়ে কমিশন হাতিয়ে নেয়।