জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রাজধানী ঢাকার মতো বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও আজ শনিবার বাস চলাচল কম। রাস্তায় নামছে না গণপরিবহন। যাত্রীরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেই বাস পাচ্ছেন না৷ এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষেরা। এমনকি বাসে নির্ধারিত ভাড়ার থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। 

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় ডিজেলসহ বিভিন্ন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম বাড়ানোর খবর জানাজানির পর তেলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সংগ্রহে যানবাহনের দীর্ঘলাইন পড়ে যায়। সকালে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ে। বিচ্ছিন্নভাবে যেসব গণপরিবহন চলাচল করছে সেগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ডিজেলচালিত বাস ও হিউম্যান হলারগুলো আগে থেকেই সর্বনিম্ন ভাড়া ৭ থেকে ৮ টাকা করে ভাড়া আদায় করছিল। এখন এসব গণপরিবহনে সেই ভাড়া ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। 


এদিকে তেলের দাম বাড়ায় আজ সকাল থেকে রাস্তায় বাস নামাচ্ছে না চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপ। 

সংগঠনটির সভাপতি বেলায়েত হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু ভাড়া তো বাড়েনি। ভাড়া বাড়ানো না হলে গাড়ির পরিচলনা খরচ উঠে আসবে না। চালক-হেলপারদের বেতনও দেওয়া যাবে না। তাই তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে ভাড়াও পুনঃনির্ধারণ করতে হবে।

নগরের বিভিন্ন রুটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের আওতায় প্রায় ৬০০ গণপরিবহন চলাচল করে। এদিকে মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল করছে। তবে গাড়ি চালাতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন  চালকরা।

সকাল থেকে কর্মজীবীরা গণপরিবহন না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। মোড়ে মোড়ে জটলা লেগে রয়েছে মানুষের। বাস না পেয়ে টেম্পো ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে তাদের। 

এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে, লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, কেরোসিনও লিটারে ৩৪ টাকা দাম বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছে। আর পেট্রোলের দাম লিটারে ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা ও অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়ে লিটার প্রতি ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।