কক্সবাজারের চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন পাউবোর জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার বদরখালী এলাকায় পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কার্যালয়ে পাশের জায়গা তিন যুগ আগে এক বছরের লিজ নিয়ে দখল করা হয়।
জানা গেছে, উপজেলার বদরখালীসহ কয়েকটি ইউনিয়নকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পরে এসব বাঁধ বিলীন
হয়ে যায়।
উপসহকারী প্রকৌশলী জামাল মোর্শেদ জানান, এক সময় পাউবোর পতিত জমি এক বছরের বন্দোবস্ত দিলেও সেই প্রথা এখন নেই। কারণ পাউবোর জমি বন্দোবস্ত নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের জমিতে বৈধ বন্দোবস্ত নেই। এসব কারণে এখন লিজ দেওয়া হচ্ছে না।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমি শাখার এডি শাহ আলম দাবি করেন, পাউবোর জমিতে বদরখালী বাজারের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পশ্চিমাংশে বেশকিছু জায়গা কয়েক যুগ ধরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। তাদের অব্যবহূত কার্যালয় থেকে শুরু করে চকরিয়া-মহেশখালী সড়কের দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত অন্তত ৫০০ মিটার জায়গায় তিন শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বেশ কয়েকজন। এরই মধ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে উচ্ছেদের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ জানান, তাঁদের মূল্যবান ভূমি দখলে চলে গেছে এবং দখলদাররা পাকা আধা-পাকা ও কাঁচা স্থাপনা নির্মাণ করে অন্তত তিন যুগ ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব জমি উদ্ধারের জন্য গত ২৯ জুন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ভূমি উদ্ধার করা হবে।
বদরখালী কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম জনি দাবি করেন, পুরো বদরখালী মৌজার সব সম্পত্তি সমিতির নামে বন্দোবস্ত দিয়েছে সরকার। পরে এখানকার বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে পাউবোকে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সমিতির চতুর্দিকে ভূমি দেওয়া হয়েছে। বিএস রেকর্ডে পাউবোর ৩ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমিতে অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির সঙ্গে লাগোয়া সমিতির নামীয় ২০৪ নম্বর খতিয়ানের জমিও রয়েছে। সমিতি তাদের মালিকানাধীন জমি সদস্যদের মাঝে প্লট আকারে বরাদ্দ দিয়েছে। সমিতি পাউবোর জমিতে স্থাপনা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়নি।
বদরখালী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবুল মনছুর জানান, পাউবোর বেদখল ভূমির বর্তমান বাজারমূল্য শতকোটি টাকা। তবে অবৈধভাবে আলিশান বিপণিবিতান নির্মাণ করেছেন বেশ কয়েকজন।