চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) কর্মচারী নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে আবারও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগের কথা বলে তিন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে হাতানো হয়েছে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। এমন অভিযোগ উঠেছে রেজিস্ট্রার অফিসের নিম্নমান সহকারী মানিক চন্দ্র দাশ ও তার স্ত্রী নিপা রানির বিরুদ্ধে।

এ সংক্রান্ত একাধিক ফোনালাপের অডিও এবং লেনদেনের বেশ কিছু ব্যাংক রিসিট সমকালের হাতে এসেছে। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ যারা করেছেন তারা হলেন, মাদারীপুরের মাকসুদুল সালেহীন, রাকিব ফরাজী ও সোহেল খান।

জানা যায়, ২০২১ সালে ৩১ মে ও ১ জুন দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে নিম্নমান সহকারী ও অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ওই তিনজনের থেকে টাকা হাতিয়ে নেন মানিক দম্পতি। টাকা লেনদেনের স্লিপে দেখা যায়, মানিকের ডাচ-বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ৭০৮১-এর মাধ্যমে টাকাগুলো নেওয়া হয়। 

মাকসুদুল সালেহীন সমকালকে বলেন, মানিক চন্দ্রের স্ত্রী নিপা রানিকে আমি প্রাইভেট পড়াতাম। সে এবং তাঁর স্বামী আমাকে চাকরির প্রস্তাব দেয়। রাকিব ও সোহেল নামে আমার পরিচিত আরও দুইজনও তাদেরকে টাকা দিয়েছে। আমাদের তিনজনের কাছ থেকে মানিক দম্পতি মোট ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 

তিনি বলেন, সেকশন অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানিক গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে চবিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের চাকরি হবে জানিয়েছিল। এখন টাকা ফেরত চাইলে মারধরের হুমকি দিচ্ছে। 

আরেক চাকরিপ্রার্থী সোহেল খান বলেন, মাকসুদুল সালেহীনের কথায় মানিক চন্দ্রকে আমি সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়েছি। আমার বন্ধু রাকিব দিয়েছে চার লাখ টাকা। 

এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা করেননি ভুক্তভোগীরা। তবে প্রতারণার অভিযোগে গত ২৫ জুলাই মানিককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল হাসান বলেন, বিষয়টি জেনেছি। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া এবং চাকরি পাওয়ার জন্য টাকা দেওয়া- দুটিই নৈতিক অবক্ষয়ের নির্দেশ করে। খুব শিগগিরই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে জানতে মানিক ও তাঁর স্ত্রী নিপাকে ফোন করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এর আগে, গত ৩ মার্চ ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত ফোনালাপ ফাঁস হয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৭ জুলাই উপাচার্যের সাবেক পিএস খালেদ মিসবাহুল মোকর রবীনকে পদাবনতি ও কর্মচারী আহমেদ হোসেনকে চাকরিচ্যুত করে সিন্ডিকেট।