কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা শিবিরের আশপাশে প্রতিদিন টন টন প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি ফসলি জমির অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ সামুদ্রিক প্রাণী প্লাস্টিকের কারণে মারা যায়। প্লাস্টিকদ্রব্য পচতে প্রায় ৭০ বছর সময় লাগে। সমুদ্র তলদেশের ৮০ শতাংশের বেশি দখল করে আছে প্লাস্টিক। জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে হলে সব ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

শনিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও সিসিএনএফের আয়োজনে মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের প্রধান নদী বাঁকখালী পলিথিনে ভরপুর। পৌর এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। সরকার প্লাস্টিকবিরোধী আইন করলেও তার বাস্তবায়ন নেই। পলিথিন কারখানাগুলো অবৈধভাবে চালু রাখা হয়েছে। অবিলম্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এজন্য সব মহলের সদিচ্ছা থাকা দরকার।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিসিএনএফের কো-চেয়ার ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, পালসের প্রধান নির্বাহী আবু মোর্শেদ চৌধুরী, মুক্তির প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে সরকার, বাপা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী প্রমুখ।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ও সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও মিজানুর রহমান বাহাদুরের যৌথ সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য দেন আবু মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সুনীল সম্পদ (সাগর) রক্ষা করতে হলে প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ফিলিফ গ্রান্ডি এবং আইএসসিজি-এর প্রধান সমন্বয়কারী অর্জুন জেইনকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাঁরাই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন তাঁদের আমরা পুরস্কৃত করব।

ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্লাস্টিক পচতে প্রায় ৭০ বছর সময় লাগে। জমির উর্বরতা ধ্বংস করে দেয়। প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে আইন যথাযথ প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

বিমল চন্দ্র দে সরকার বলেন, বিজ্ঞানীদের শঙ্কা, ২০৩০ সালের দিকে সাগরতলে মাছের চেয়ে প্লাস্টিক পাওয়া যাবে বেশি। আর প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ সামুদ্রিক প্রাণী প্লাস্টিকের কারণে মারা যায়।

মকবুল আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক উৎপাদন এবং বিপণন বন্ধ করতে গেলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের আন্দোলনের সঙ্গে সরকারের আইন প্রণয়নকারী এবং নীতিনির্ধারকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান বক্তারা।