ঢাকা বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩

পার্কের জায়গা দখল করে কাঠের দ্বিতল মার্কেট

পার্কের জায়গা দখল করে কাঠের দ্বিতল মার্কেট

আনোয়ারুল হায়দার, নোয়াখালী

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে সরকারি পার্কের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখল করে কাঠের দ্বিতল মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। দখলকাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্ষুদ্র হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি একরাম উল্যাহ ডিপটি। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে নির্মাণ বন্ধ করে দিলেও তারা চলে যাওয়ার পর আরও দ্রুতগতিতে চালানো হচ্ছে কাজ। সুপারমার্কেটসংলগ্ন কাঠের এই অবকাঠামো নির্মাণের কারণে পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী অগ্নিঝুঁকিতে পড়ছেন। তারা দ্রুত এ কাঠের অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিন পরিদর্শন এবং জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নোয়াখালী গণপূর্ত অধিদপ্তরের নামে ডিএস খতিয়ানভুক্ত মাইজদী পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের সুপারমার্কেটের পশ্চিম পাশে ৬৫ শতক জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি পড়ে ছিল। ওই জায়গায় একটি পার্ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে ওপরে পাঠানোও হয়েছে। সেটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ১০ দিন আগে সেখানে দ্বিতল কাঠের ভবন নির্মাণ শুরু করেন নোয়াখালী ক্ষুদ্র হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেতারা।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওই জমির মূল্য ৬৫ কোটি টাকারও বেশি। অবৈধ মার্কেট নির্মাণের খবর পেয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক তাঁর কার্যালয়ের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তবে প্রশাসনের লোক চলে যাওয়ার পর আরও দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এই দখলকাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নোয়াখালী সুপারমার্কেট পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি একরাম উল্যাহ ডিপটি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সা’দ মোহাম্মদ আন্দালিব বলেন, গণপূর্তের ওই ৬৫ শতক জায়গায় একটি পার্ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে ওপরে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে। সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়। তবে তারা পুনরায় কাজ করছে।

সুপারমার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কেট নির্মাণের নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের থেকে এক কোটি টাকার বেশি চাঁদা তোলা হয়েছে। তা ছাড়া সুপারমার্কেটের দেয়াল ঘেঁষে কাঠের পাটাতন দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ মারাত্মক হুমকি। কাঠের এই অবকাঠামোয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সুপারমার্কেটের পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী। ঝুঁকিপূর্ণ এ অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

একরাম উল্যাহ ডিপটি বলেন, এ কাজ আমি তদারকি করছি। মার্কেট নির্মাণে প্রশাসনের কোনো বরাদ্দ কিংবা অনুমতি নেই। তবে প্রশাসনকে জানিয়ে ১০ মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে এটি তৈরি করা হচ্ছে। এখানে ক্ষুদ্র হকার্স ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা হবে।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওই জায়গা কারও নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করার পরও আবার শুরু হয়েছে। শিগগিরই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।

আরও পড়ুন