সিটি নির্বাচন

সিলেটের ২ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৮      

সিলেট ব্যুরো

সকালে বৃষ্টি মধ্যে হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারী ভোটারদের ছাতা মাথায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়— ইউসুফ আলী

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থগিত দুই কেন্দ্র— নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। ভোট গ্রহণ শেষে এখন চলছে গণনা। গণনা শেষে এই সিটিতে মেয়র পদে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

শনিবার ভোট চলাকালে দুই কেন্দ্রের কোনোটিতেই তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা খবর পাওয়া যায়নি। তবে গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় পাঁচজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

ভোট চলাকালে মেয়র পদে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে তারা দু'জনেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলার কথা জানান। কামরান জানান, ফল যা-ই হোক তিনি মেনে নেবেন। অন্যদিকে আরিফুল বলেন, 'ষড়যন্ত্র' না হলে ভোটে তিনিই জিতবেন।

শনিবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেই সিলেটের দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ সময় ছাতা মাথায় অনেক নারী ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

গত ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টি কেন্দ্রের ফলে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের চেয়ে ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন তিনি। ১৩২টি কেন্দ্রের ভোট গণনায় আরিফুল হক চৌধুরী ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট এবং বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট পেয়েছেন।

শনিবার যে দুটি কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে, তাতে মোট চার হাজার ৭৮৭ ভোটের মধ্যে মাত্র ৮১ ভোট পেলেই মেয়র পদ ধরে রাখতে সমর্থ হবেন আরিফুল হক। তবে এই দুটি কেন্দ্রের মোট ভোটারের মধ্যে মারা যাওয়ায় ও প্রবাসে থাকায় ৩০১ জন ভোট দিতে পারবেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার আরিফুল হক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নুরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মৃত ও প্রবাসীদের ভোট ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এমন হলে শনিবার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান স্থগিত দুটি কেন্দ্রের সব ভোট পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ১৪০ ভোটে পিছিয়ে থাকবেন। 

৩০ জুলাই সিলেট নির্বাচনের ভোট চলাকালে গোলযোগের কারণে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। শনিবার মেয়র পদের পাশাপাশি এই দুই কেন্দ্রে সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদেও ভোটগ্রহণ করা হয় বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান।

নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তিনজন এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই দুটি কেন্দ্রের জন্য সংরক্ষিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচজন নারী এবং সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৮ জন নারী প্রার্থীর ভাগ্য ঝুলে আছে।

এ ছাড়া সংরক্ষিত ৭ নম্বর (সাধারণ ওয়ার্ড ১৯, ২০ ও ২১) ওয়ার্ডের ১৪টি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে প্রার্থী নাজনীন আক্তার কনা ও নার্গিস সুলতানার ভোট সমান হওয়ায় শনিবার এই ১৪ কেন্দ্রেও পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত ভোটে তারা দু'জনেই সমান চার হাজার ১৫৫ ভোট পেয়েছেন।